


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জঙ্গল থেকে বাঘ যাতে লোকালয়ে হানা দিতে না পারে, মানুষের কাছাকাছি না আসতে পারে তার জন্য সুন্দরবনে বসানো হল সৌরবিদ্যুৎ পরিচালিত যন্ত্র। তাতে থাকবে সেন্সর। এর সামনে বা কাছাকাছি বাঘ এলেই অ্যালার্ম বেজে উঠবে জোরে। তা শুনে বন্যপ্রাণীরা ভয়ে পিছু হটবে। ফিরে যাবে গভীর অরণ্যে। তবে আওয়াজ কোনো ক্ষতি করবে না তাদের, এই আশা বনবিভাগের আধিকারিকদের। আপাতত রাইদিঘি রেঞ্জের জঙ্গলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়েছে এই যন্ত্র।
সুন্দরবনে মানুষ ও বাঘের সংঘাত রুখতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নিয়েছে বনবিভাগ। প্রথমে নাইলনের জাল লাগিয়ে বাঘকে জঙ্গলে আটকে রাখার ব্যবস্থা করেছিল। তারপর জালে বিশেষ আলো লাগিয়ে বাঘকে দূরে রাখার চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু তাতেও যে সবসময় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে গ্রামে ঢোকা থেকে ঠেকানো গিয়েছে, এমন নয়। তাই এবার আরও একটি উদ্যোগ নেওয়া হল। যে যন্ত্র বসানো হয়েছে সেটির নাম ‘অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম’। বন্যপ্রাণী অনুপ্রবেশের আগেই আগাম সতর্ক করবে এই যন্ত্র। যন্ত্রটি নিজের অবস্থান থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত কোনো প্রাণী এলেই অ্যালার্ম বাজানো শুরু করবে। ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগের সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি মেশিন বসানো হয়েছে হেরোভাঙা ৯ নম্বর কম্পার্টমেন্টের নির্বাচিত স্থানে। কুলতলি ব্লকে গ্রাম সংলগ্ন একাধিক জঙ্গল রয়েছে। শীতকালে সেখানে বাঘ প্রবেশের ঘটনা প্রায়শই ঘটে । সে কারণে এই যন্ত্র বসানোর জন্য বসতি লাগোয়া জঙ্গলকেই বেছে নেওয়া হয়েছে, যেসব এলাকা দিয়ে বাঘ বেশি বেরয়, লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে সে রকম এলাকা। বনবিভাগের পক্ষ থেকে সেরকম কিছু স্থানকে চিহ্নিত করে যন্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের ফিলবিট অভয়ারণ্যে অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম বসানো রয়েছে। নিজস্ব চিত্র