


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরের পকিডনি পাচার চক্রের তদন্তে নেমে হতবাক পুলিস ও প্রশাসন। গোটা ঘটনায় দক্ষিণ কলকাতার নামজাদা নার্সিংহোমের এক নেফ্রোলজিস্ট চলে এসেছেন তদন্তকারীদের ‘স্ক্যানারে।’কেন না, অবৈধভাবে কিডনি প্রতিস্থাপনের সবক’টি ক্ষেত্রে ওই চিকিৎসকের নাম রয়েছে। এখানেই অবশ্য শেষ নয়! ‘অবৈধভাবে’ কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া হয়েছে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দু’টি
দিনেই। কিডনি পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্তকারীরা ওই চিকিৎসককে ‘সন্দেহভাজন’র তালিকায় রেখেছেন। সূত্রের দাবি, ওই চিকিৎসককে পুলিস জেরাও করতে চলেছে খুব দ্রুত। তাহলে, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কে ‘জাস্টিস’ চাইবেন, প্রশ্ন তুলছেন নিন্দুকেরা।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, অশোকনগর-কাণ্ডে ধৃত অমিতের জাল রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়ানো আছে। আর কিডনির খদ্দের জোগাড় করতে তাদের ‘দালাল’ রাখা ছিল কলকাতার ওই নার্সিংহোমে। বিশেষ টার্গেট ছিল, নেফ্রোলজি সেন্টারগুলি। কারণ, সেখানেই তারা জানতে পারত কোন রোগীর কেমন কিডনির প্রয়োজন। এরপর খবর পেলেই শীতলের মতো ‘সুদখোর’দের কিডনি আনতে ‘নির্দেশ’ দিত অমিতরা। তখনই অভাবী মানুষকে ঋণ দিয়ে পরিশোধের জন্য চাপ দিয়ে কিডনি বিক্রি করাতে রাজি করত। হতদরিদ্ররা কিডনি বিক্রি করতে রাজি হলে প্রয়োজনীয় নথি, আইনি স্বীকারোক্তির দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের ‘ফিট ও রেকমেন্ডেশন সার্টিফিকেট’ লাগে। বারাসত মহকুমার প্রায় সব কিডনিদাতার ক্ষেত্রে ওই একজন নেফ্রোলজিস্টের তরফে রেকোমেন্ডেশন এসেছে বলেই বিশ্বস্ত সূত্রে খবর। তাই সেই ডাক্তারকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে পুলিস। পাশাপাশি বাকি কিডনি পাচারের টিমের খোঁজ পেতে একদিকে যেমন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তেমনই বিভিন্ন এলাকায় চড়া সুদের কারবারিদেরও আতস কাচের নীচে রেখেছেন তদন্তকারীরা। এর জন্য স্পেশাল তদন্তকারী টিমও গঠন হয়েছে। এই কাণ্ডে ধৃত পাঁচজনকে দফায় দফায় জেরা করেছেন টিমের সদস্যরা। পুলিসের একটি বিশেষ সূত্রের খবর, বিগত দু’বছরে অশোকনগর এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি কিডনি দানের আবেদন জমা পড়েছে স্বাস্থ্যদপ্তরে। এই সংখ্যাটা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এছাড়া মধ্যমগ্রাম থানা এলাকায় ছ’জন, হাবড়ার পাঁচজন, নিউটাউনের দু’জন আবেদন করেছিল। তাছাড়া বারাসত, দেগঙ্গা, দত্তপুকুর, বাগুইহাটি এলাকায় একজন করে কিডনি দিতে চায় বলে জানিয়েছিল। এক্ষেত্রে প্রথমে হয় পুলিস ভেরিফিকেশন। তারপর হয় মহকুমাস্তরে হেয়ারিং। তাছাড়া একই চিকিৎসকের কাছে বারবার ‘ফিট সার্টিফিকেট’ দেওয়ার বিষয়টিও ভাবাচ্ছেতদন্তকারীদের। তাছাড়া ‘চেনা মুখের’ মাধ্যমে বারবার দাতা ও গ্রহীতা জোগাড় করা কেন? তা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে কেন সন্দেহ জাগাল না, এটাও তদন্তের আওতায় এসেছে।
পুলিস আরও জানিয়েছে, এই চক্র রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ‘সুদখোর’দের সঙ্গে কমবেশি সব টিমেরই রয়েছে যোগাযোগ। ধৃত বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল, গুরুপদ জানা ওরফে অমিত, মৌসুমি সর্দার, তার স্বামী গৌর সর্দার এবং পিয়ালি দে’কে জেরা করে এমনই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তারা ক্যানিং, বারাকপুর, হাওড়া এলাকাতেও একইভাবে সুদখোরদের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের চাপ দিয়ে কিডনি বিক্রি করিয়েছিল বলেও স্বীকার করেছে। এছাড়া তাদের কথাতেও ওই ‘বিতর্কিত’ চিকিৎসকের নাম আসছে। পুলিসের স্পষ্ট দাবি, এটা বিভিন্ন দপ্তরের তদন্তের বিষয়। তাই, এখনই এই সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কোনও কিছু বলা সম্ভব নয়।