


ওয়াশিংটন: জল্পনার অবসান। ইরানের মাটিতে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা গিয়েছে। রবিবার এমনই ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, কর্নেল পদমর্যাদার ওই পাইলটকে উদ্ধারের জন্য কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইরানে পাঠিয়েছিলেন। বিমানগুলিতে ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সব অস্ত্রশস্ত্র। সেই অভিযানে মার্কিন সেনা সফল। পাইলটকে উদ্ধারের খবর মিলতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা ওঁকে খুঁজে পেয়েছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তাঁর আঘাত লাগলেও, তা দ্রুত সেরে যাবে।’ ট্রাম্প মার্কিন সেনার অভিযানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এব্যাপারে তিনি লেখেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সেনাবাহিনী আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।’ ইরানে আটকে পড়া অন্য এক পাইলটকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উদ্ধারে সমস্যা হতে পারে বলে ওই পাইলটের কথা আগে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ট্রাম্পের কথায়, এই প্রথম শত্রুদেশ থেকে আলাদা অভিযান চালিয়ে দুজন মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হল। দুই অভিযানে মৃত্যু তো দূরের কথা, একজন মার্কিন সেনা আহতও হননি।’
তবে, ট্রাম্প মার্কিন সেনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেও এই অভিযান মসৃণ হয়নি বলেই দাবি করেছে ইরান। জানা যাচ্ছে, গভীর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে প্রথমে ইরানের সীমার ভিতরে ঢুকে পড়ে মার্কিন সেনার স্পেশাল ফোর্স। ওই পাইলটের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। কিন্তু ফিরে আসার সময় মার্কিন সেনার উপস্থিতি টের পেয়ে যায় ইরান। শুরু হয় তুমুল গুলির লড়াই। ইসফাহান শহরের দক্ষিণ প্রান্তে ধ্বংস হয়ে যায় একটি মার্কিন সি-১৩০ বিমান। ওই বিমান মূলত পরিবহণ ও মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার কাজে লাগে। কিন্তু তার মধ্যেই ওই পাইলটকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা হয়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, অভিযান চালাতে গিয়ে আমেরিকার অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পালটা হামলায় একাধিক ‘উড়ন্ত বস্তু’-কেও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। সেই উড়ন্ত বস্তুগুলি ড্রোন নাকি যুদ্ধবিমান, তা অবশ্য স্পষ্ট করে জানায়নি তারা। যদিও আমেরিকার দাবি, ওই সি-১৩০ বিমানটি অভিযান চলাকালীন যান্ত্রিক গোলযোগের মুখে পড়েছিল। সেটির প্রযুক্তি যাতে ইরানের হাতে না যায়, তার জন্য মার্কিন সেনাই সেটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ওই বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে পাইলটকে খুঁজতে যাওয়া দু’টি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার মুখে পড়ে।
গত শুক্রবার ইরানে অভিযানে গিয়েছিল আমেরিকার একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ফাইটার জেট। কিন্তু সেটি লক্ষ্য করে পালটা আক্রমণ শানায় ইরান। ভেঙে পড়ে বিমানটি। দুই পাইলটের একজনকে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করা গেলেও, অপর পাইলট ইরানের ভূখণ্ডেই নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর সন্ধানে আমেরিকার পাশাপাশি তল্লাশি শুরু করে ইরানও। পাইলটকে জীবিত ধরতে পারলে পুরস্কার ঘোষণাও করে দেয় তেহরান। তারপর থেকেই নিখোঁজ পাইলটকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। যদিও ইরানি সেনা কিছু করার আগেই তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হল আমেরিকা।