


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সামশেরগঞ্জ যখন অশান্ত, সেই সময় সম্প্রীতির চিত্র দেখা যাচ্ছে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ানে। সেখানে হিন্দু অধ্যুষিত সিংহপাড়ায় মুসলিমদের বুক দিয়ে আগলে রাখেন হিন্দুরা। আবার হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের রক্ষা করেন মুসলিমরাও। বিপন্ন সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেন। স্থানীয় দুই স্কুল শিক্ষকও এলাকায় গিয়ে সকলকে মিলেমিশে থাকার কথা বলেন। দুই শিক্ষকের প্রচেষ্টার ফল মিলেছে। তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী।
ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুমিত সাহা বলেন, এলাকা আপাতত শান্তিপূর্ণই রয়েছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। মঙ্গলবার বন্ধের বাজার তাই একটু শুনশান মনে হচ্ছে। আশা করছি, বুধবার থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সিংহপাড়ার মতো আমরা যত মিলেমিশে থাকব, সবার জন্য ততই মঙ্গলময় হবে।
সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহপাড়ায় হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বাস। বেশ কয়েক ঘর হিন্দু পরিবারের পাশেই মুসলিম পরিবারের বাস। কিছুটা ব্যবধানের পর বেশ কয়েক ঘর মুসলিম পরিবারের পাশাপাশি বাস করে কয়েকটি হিন্দু পরিবার। গত শনিবারে যখন আগুনে জ্বলছে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান, ডাক বাংলো ও জাফরাবাদ সহ একাধিক এলাকায়। জ্বলছে পরপর বাড়িঘর থেকে দোকানপাট। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন এলাকাবাসী, ঠিক সেইসময় সিংহপাড়ায় কয়েকঘর মুসলিম পরিবারের সদস্যদের আগলে রাখেন হিন্দুরা। তাঁদের অভয় দিয়ে হিন্দু ভাইয়েরা বলেন, ‘ভয় নেই, আমরা আছি’। স্থানীয় বাসিন্দা অভিরাম সিংহ বলেন, ‘আমরা মিলেমিশেই থাকি, আমাদের সঙ্গে কোনওদিন কোনও ঝামেলা হয় না। আগামী দিনেও আমরা একইরকম থাকব। গৃহবধূ সেরিনা বিবি বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে কী করব, কোনদিকে যাব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তখন এলাকার দাদারাই সব এগিয়ে এসে বলেন, ‘কোনও ভয় নেই আমরা আছি।’
অপরদিকে সূতির জগতাই এর ৭৫ বছর বয়স্কা ফুলবতী মণ্ডল বলেন, ‘আমি বহু বছর এই এলাকায় বাস করছি। হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি থাকি। আমাদের বাড়ির খাবার ওদের বাড়িতে যায়, তেমনি ওদের খাবার আমাদের ঘরেও আসে। গণ্ডগোলের সময় আমরা একসঙ্গেই ছিলাম।’
বাসুদেবপুর বি জে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজাউর রহমান ও শিকদারপুর প্রাথমিক স্কুলের মাস্টার রতনকুমার দাস এলাকায় গণ্ডগোল শুরুর প্রথমদিন থেকেই এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে এলাকায় কোনওরকম অশান্তি না করার বার্তা দেন। এলাকাবাসীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেন। কোনওরকম সমস্যা হলে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মিটিয়ে নিতে বলেন। এমনকী এলাকায় গিয়ে তাঁরা মানুষকে সচেতনও করেন। ফলে চাচন্ড, নিমতিতা ও শিকদারপুরে কোনওরকম অশান্তি ছড়ায়নি।