


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড় শিক্ষা দিয়েছে নদীয়ার ভুতূড়ে বার্থ সার্টিফিকেট চক্র! এমন সব বার্থ সার্টিফিকেট সেখানে বেরিয়েছে, বাস্তবে যাদের নামের কোনও অস্তিত্বই নেই। যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ওই নামে কেউ থাকেই না। এছাড়া, বাবার জায়গায় মায়ের নাম, মায়ের জায়গায় বাবার নাম—এমন অদ্ভুতুড়ে ঘটনাও ঘটেছে। শুধু নদীয়ার বগুলা-২ নং ব্লক থেকেই এমন ৬ হাজার বার্থ সার্টিফিকেট পাওয়া গিয়েছে। এর থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরে ইস্যু হওয়া সমস্ত বার্থ সার্টিফিকেট যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হল বিএমওএইচ বা ব্লক প্রাইমারি হেলথ অফিসারদের। কীভাবে তাঁরা এই কাজ করবেন? সেই ফর্মুলাও বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। যাঁদের নামে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে পাঠানো হবে আশাকর্মীদের। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গিয়ে জেনে আসবেন, কোনও সন্তান জন্মেছে কি না। কোনও কারচুপি থাকলে তখনই ধরা পড়ে যাবে।
আরও একটি ব্যবস্থা নিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। জাল বার্থ সার্টিফিকেটের কারবারিরা মহকুমা শাসকের সার্টিফিকেট পর্যন্ত জাল করে দিচ্ছে বলে খবর। আদর্শ নিয়ম হল, আবেদনকারীর দলিল, কাগজপত্র যাচাই করে সরকারি ই-ডিস্ট্রিক্ট পোর্টাল থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ ইস্যু করবেন মহকুমাশাসক। সেই সার্টিফিকেট ‘আপলোড’ করা হবে জন্ম-মৃত্যু তথ্য নামক সরকারি পোর্টালে। তারপর মিলবে বার্থ সার্টিফিকেট। অসাধু চক্রের কারবারিরা মহকুমা শাসকের কাছে যাচ্ছেই না। জাল ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ তৈরি করে সেটাই ‘আপলোড’ করে দিচ্ছে। পোর্টালের পক্ষে আসল-নকল ধরার উপায় না থাকায় বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়ে যাচ্ছে। এই কারণে এবার থেকে ই-ডিস্ট্রিক্ট পোর্টালের সঙ্গে ‘জন্ম মৃত্যু তথ্য’ পোর্টাল জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ই-ডিস্ট্রিক্ট পোর্টাল ‘নো অবজেকশন’ দিলে তখনই ‘জন্ম মৃত্যু তথ্য’ পোর্টাল সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। ফোন না ধরায় এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।