


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: ডিজিটাল যুগে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে সাইবার প্রতারণার ধরন। কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে মানুষকে ফাঁদে ফেলা। প্রতারকদের কৌশল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চতুর ও প্রযুক্তিনির্ভর। সাধারণ মানুষ অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাঙ্কিং ডিটেইলস কিংবা ওটিপি শেয়ার করে আর মুহূর্তের মধ্যেই খোয়াতে হয় সারা জীবনের সঞ্চয়। এই প্রেক্ষাপটে সচেতনতার বিকল্প নেই। সেই বার্তাই জোরদার করতে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেছে বারাসত জেলা পুলিশ।
বর্তমান সময়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউব শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। তথ্য প্রচারেরও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই বারাসত জেলা পুলিশ নিয়মিতভাবে তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে সতর্কতামূলক পোস্ট, ভিডিও বার্তা তুলে ধরছে। অচেনা নম্বর থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক করলে কী ক্ষতি হতে পারে, কেওয়াইসি আপডেটের নামে ফোন এলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সহজ ভাষায়। সম্প্রতি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’, ‘লোন অ্যাপ প্রতারণা’, ‘পার্সেল স্ক্যাম’ কিংবা ‘জব অফার স্ক্যাম’-এর মতো নতুন নতুন কৌশলে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। প্রতারকরা কখনও নিজেদের পুলিশ বা সিবিআই অফিসার পরিচয় দেয়, কখনও ব্যাংকের কর্মী সেজে ভয় দেখায়। এই ভয় আর বিভ্রান্তিকেই কাজে লাগিয়ে তারা হাতিয়ে নেয় টাকা। তাই বারাসত জেলা পুলিশ বারবার জানাচ্ছে, কোনো সরকারি সংস্থা ভিডিয়ো কল করে কাউকে গ্রেপ্তার করে না। কিংবা ব্যাংক কখনও ফোনে ওটিপি বা পিন জানতে চায় না।
শুধু সতর্কবার্তাই নয়, ভুক্তভোগীদের দ্রুত অভিযোগ জানানোর পথও সহজ করে দিচ্ছে পুলিশ। সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে দ্রুত ফোন করা এবং সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথাও বলা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তথ্যগুলি ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারছেন। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকরাও এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। কিন্তু অনেক সময় তারা প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি সম্পর্কে সচেতন নন।
ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। আর সেই লক্ষ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বারাসত জেলা পুলিশ।