


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখ। নববর্ষ। ২০৩২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে উৎসবের আমেজে গা ভাসায় গোটা রাজ্য। ওইদিন রাজ্যে সরকারি ছুটি। তার আগের দিন অর্থাৎ সোমবার চৈত্র সংক্রান্তির দিনে ছুটি ডঃ বি আর আম্বেদকরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে। ফলে শনি ও রবিবারের ছুটি ধরলে সরকারি কর্মীদের চারদিনের উইকএন্ড। মন খুলে বেড়ানোর আদর্শ সময়। এই চারদিনের ছুটিতে তাই অনেকেই পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র— বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় জমাতে চলেছেন।
সরকারি টুরিস্ট লজ, হোটেল, গেস্ট হাউসে এখন জায়গা মেলা ভার। আগেভাগে সব ভর্তি হয়ে যাওয়ায় শেষবেলায় বুকিং করতে গিয়ে বিফল হচ্ছেন বহু মানুষ। এমন লম্বা উইকএন্ডের মজা বাড়াতে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। যার জেরে জঙ্গলে ঘেরা কটেজে বসেই নববর্ষের দিন হরেক বাঙালি পদে রসনা তৃপ্তি করতে পারবেন পর্যটকরা। থাকবে আমপান্নার সরবত থেকে শুরু করে বাসন্তী পোলাও, ভেটকি পাতুরি, ফিশ ফ্রাই, লুচি, আলুর দম, ছোলার ডাল, সাদা ভাত, সোনা মুগ ডাল, এঁচোড় চিংড়ি, খাসির মাংস, আমের চাটনি, পাপড়, সন্দেশ, রসমালাই সহ একাধিক পদ। ফলে বাংলা বছরের শুরুর দিনে এমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ রয়েছে বলে পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের অধীনে থাকা জলদাপাড়ায় অরণ্য ট্যুরিজম প্রপার্টি এবং গোরুমারার তিলাবাড়িতে তিলোত্তমা ট্যুরিজম প্রপার্টিতে নববর্ষকে সামনে রেখে ‘বাংলার শুভ নববর্ষে বাংলার খাওয়া’ নামে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে চারদিনের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ডুয়ার্স ঘোরার মজা আরও দ্বিগুণ হতে চলেছে। তবে শুধু জঙ্গল নয়, সমুদ্রের ঢেউ গুনতে গুনতেও বাঙালি পদের আনন্দ পেতে পারেন পর্যটকরা। কারণ, ওইদিন একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বকখালিতে ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টিতে। এছাড়াও, শিলিগুড়ির মৈনাক, শান্তিনিকেতনের শান্তবিতান এবং বিধাননগরের উদয়াচল টুরিজম প্রপার্টিতে ‘বাংলার শুভ নববর্ষে বাংলার খাওয়া’-র আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন খাদ্য রসিকরা।