


নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনা অনুষ্ঠান কার্যত ফ্লপ হয়েছিল। রাসমেলা ময়দানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সভায় পর্যাপ্ত লোক জমায়েত হয়নি। তেমনই গত ৫ মার্চ বিজেপির রথ যাত্রায় ৩০-৩৫টি গাড়িতে যে ক’জন লোক ছিল তারা বাদে রাস্তায় তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। আর জেলায় পরিবর্তন যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিজেপির উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। মাঠে ময়দানেও পার্টি কর্মীদের দেখা নেই। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি কোনো উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যদিও বিজেপির দাবি, সমস্ত বুথে তাদের কাজ চলছে।
আর ঠিক এই জায়গাতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, মিটিং মিছিল কিছুই চোখে পড়ছে না, তাহলে বিজেপি কোন কর্মসূচি পালন করছে? বিজেপির জেলা নেতৃত্বের একাংশ দাবি করছে, এবার তারা স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সম্মুখ সমরে শক্তি ক্ষয় করতে তারা নারাজ। তাই তারা পদ্ধতি বদলেছে। কিন্তু কি সেই পদ্ধতি? মুখে না বললেও আসলে বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার কাজ করছে।
কোচবিহার জেলায় বিজেপির ছ’জন বিধায়ক। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁদের এলাকায় এলাকায় চষে বেড়ানোর কথা। বিগত নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচির ছবিতে ছবিতে সোশ্যাল মিডিয়া ছয়লাপ হয়ে যেত। কিন্তু এবার তেমন কিছুই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণেই বিজেপির এই পরিণতি হয়েছে। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, তাঁরা তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জয় তাদেরই হবে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ব্রিগেডের জনসভার জন্য প্রস্তুতি চলছে। আমরা আগেই বলেছি, তৃণমূল যে স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে তা প্রতিহত করার জন্য আমরাও পাল্টা স্ট্র্যাটেজি নিয়েছি। আমরা আমাদের পদ্ধতি অনুসারে সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছি। দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতী রাভা রায় বলেন, প্রত্যেক বুথে কার্যকর্তা রয়েছেন। আমাদের কাজ চলছে। সবকিছুর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হচ্ছে না। আমরা আমাদের মতো করে সংগঠন গুছিয়ে প্রচার চালাচ্ছি।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ওদের সঙ্গে লোক নেই। পরিবর্তন যাত্রার ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না।
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার পর কোচবিহারে গেরুয়া দলের রাজনৈতিক পরিসরে কিন্তু তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। দলের জেলা পার্টি অফিসে উপচে পড়া ভিড়, কোচবিহার শহরের এলাকায় এলাকায় সভা বা গ্রামীণ হাট, বাজারে বিজেপির জনসভা ইত্যাদি কোনো কিছুই এখনও চোখে পড়ছে না। এতেই তৃণমূল কটাক্ষ করতে শুরু করেছে, বিজেপির সঙ্গে মানুষ নেই। পরিবর্তন যাত্রা করেও আসলে কোনো পরিবর্তনই হয়নি।
গত লোকসভা নির্বাচনে জেলায় বিজেপির শোচনীয় হারের পর থেকেই পদ্ম পার্টির সংগঠন দুর্বল হতে শুরু করে। রাসমেলা মাঠে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সভায় লোক না হওয়া সেই সাংগঠনিক দুর্বলতার চূড়ান্ত প্রতিফলন বলেই মনে করছেন দলের একাংশ নেতা-কর্মী।