


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বাংলায় জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্বের হাওয়া তুলতে সক্রিয় বিজেপি। একদিকে নেওয়া হয়েছে ‘বন্দেমাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি ঘিরে মাসভর কর্মসূচি, অন্যদিকে ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের জন্য পবিত্র উপকরণ শুদ্ধ গঙ্গাজল জোগানের অভূতপূর্ব ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে শুদ্ধ গঙ্গাজল বিক্রির প্রকল্পকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামবে গেরুয়া পার্টি। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ১,১০০টি পোস্ট অফিসকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এই প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অন্যত্র এই প্রকল্প ঘিরে জনমানসে বিরাট উৎসাহ ধরা পড়েছে। কিন্তু প্রকল্পটি বাংলায় সেভাবে প্রচারে আসেনি। বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে ফের গঙ্গা শুদ্ধির মন্ত্রে নিজেদের সিক্ত করতে চাইছে পদ্ম ব্রিগেড। ২০২৬ সালে নির্বাচনে বিজেপি আওয়াজ তুলেছে, ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’। মেরুকরণের এই রাজনীতিতে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার সহায়কের ভূমিকায় নেমেছে।
৭ নভেম্বর থেকে টানা একমাস দেশজুড়ে ‘বন্দেমাতরম’এর সার্ধশতবর্ষ পালন হবে। বাংলার গ্রামে-শহরে আরও নিবিড়ভাবে দেশাত্মবোধ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা কৌশল নিয়েছে বিজেপি। গত শুক্রবার মেট্রো স্টেশন ও রেল স্টেশনে ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে। জাতীয়তাবাদী আবহ তৈরি করতে যা ছিল মাস্টারস্ট্রোক। বঙ্গ বিজেপি প্রচার করছে, ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি নিয়ে বহু বিপ্লবী ফাঁসির দড়ি নিজের গলায় তুলে নিয়েছিলেন। ‘বন্দেমাতরম’ মুখে মাতঙ্গিনী হাজরা ইংরেজের গুলির সামনে নিজের বুক পেতে দিয়েছিলেন। সেই বন্দেমাতরমের বিরুদ্ধে কংগ্রেস পথে নেমেছিল দিল্লিতে। এই গান মুসলিমদের পক্ষে গাওয়া সম্ভব নয়, দাবি ছিল হাত পার্টির। আগামী এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে গেরুয়া শিবিরের।
অন্যদিকে, রাজ্যের ১,১১০টি ডাকঘর থেকে গঙ্গাজল বিলি ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের কাছে বিরাট প্রাপ্তি বলে মনে করছেন বিজেপি নেতারা। বহু মানুষ শুদ্ধ গঙ্গাজল পেতে নাকাল হন। এবার সেই সমস্যা দূর হবে, আশাবাদী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। এই মুহূর্তে রাজ্যের ৩৩৭টি পোস্ট অফিসে এই পরিষেবা মেলে। তা একলাফে তিনগুণ বাড়ানো হচ্ছে। ২৫০ মিলি লিটার গঙ্গাজলের দাম ৩০ টাকা।