


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হলুদ কিন্তু কালো! কাঁঠালের আমসত্ত্ব বা সোনার পাথরবাটির কথা কানে শোনা যায় কিন্তু চোখে দেখা যায় না। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনা গেলে কালো হলুদের কথা কানে শোনা তো যায়ই। চোখেও দেখা যায়।
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কালো হলুদ আবিষ্কার করেছেন। এটি একটি বিশেষ ধরনের হলুদ। প্রধানত ওষুধ তৈরি করতে কাজে লাগে। দেখতে সাধারণ হলুদের মতোই। তবে ভিতরের অংশ পুরো কালো। পোশাকি নাম, ‘ব্ল্যাক টারমারিক’। গন্ধ অনেকটা কর্পূরের মত। সাগরে দেদার চাষ হচ্ছে। ভালো লাভ করছেন কৃষকরা। খোলা বাজারে এক কেজি এমনি হলুদের দাম মেরেকেটে শ’পাঁচেক টাকা। সেখানে ব্ল্যাক টারমারিকের দাম কম করে তিন হাজার টাকা।
এই ব্লকের তেঁতুলিয়া গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক জানালেন, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেছিলেন। ভালো ফলন হয়। শুকদেব নাথ নামে প্রবীণ এক কৃষক বলেন, ‘প্রায় ৮০ কৃষক কালো হলুদ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা কিনতে আগ্রহী।’ কৃষি বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, উষ্ণ ও আর্দ্রতাপূর্ণ আবহাওয়ায় এই হলুদের চাষ ভালো হয়। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এখানে সেরকমই পরিবেশ। চাষে খুব বেশি জলের প্রয়োজন হয় না। তবে জমি পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। আগাছা বা অন্য কোনও ফসলের গাছ থাকলে চাষ ঠিকঠাক হয় না। কালো হলুদ জন্মে পরিষ্কার জায়গায়।
বর্ষার আগে চারা রোপণ। পৌষ-মাঘ মাসে ফসল তোলা। কাঁচা অবস্থায় হলুদের ভিতরের অংশের রং নীল। কারণ তখন রাসায়নিক কম পরিমাণ থাকে। পরিপক্ক হলে সেই বিশেষ রাসায়নিকের ঘনত্ব বাড়ে। এবং রং কালো বর্ণ ধারণ করে। সর্দি, কাশি ইত্যাদি রোগের অব্যর্থ ওষুধ তৈরি হয় ব্ল্যাক টারমারিক দিয়ে। তাই এর চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীপক ঘোষ বলেন, ‘অসম ও দক্ষিণ ভারতে কালো হলুদ চাষের প্রচলন আছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের মধ্যেও চাষে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বীজ তৈরি হয়েছিল। তারপর চার বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ হয়। চাষের আগে কৃষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’ এরপর শুরু হয়েছে কালো হলুদ চাষ। তা ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। সোনার পাথরবাটির মতো মোটেও কথার কথা নয়। জ্বরজারি হলে সাগরের কালো হলুদে তৈরি মহৌষধেরই দ্বারস্থ হতে হবে বাঙালিকে। অপেক্ষা সে ভবিষ্যতের।