


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্রিটিশ বণিকমহল। গ্র্যান্ট থর্নটনের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রিপোর্ট (আইবিআর) বলছে, বৃদ্ধির নিরিখে বর্তমানে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার বলে শনাক্ত করেছে ৭২ শতাংশ ব্রিটিশ সংস্থা। গত বছর এটা ছিল ৬১ শতাংশ। ইঙ্গিত স্পষ্ট, কৌশলগত কারণেই ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২৮ শতাংশ ভারতে ব্যবসা করে। তবে পরিস্থিতি যে বদলাচ্ছে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। ভারতে এখনও যাদের ব্যবসা নেই, সেই সংস্থাগুলির মধ্যে ৭৩ শতাংশই ভারতের বাজারে পা রাখার পরিকল্পনা করছে। তার মধ্যে ১৩ শতাংশই আগামী ১২ মাসের মধ্যে ভারতের বাজারে ঢোকার জন্য ঝাঁপাচ্ছে। ব্রিটেন মিটস ইন্ডিয়া ২০২৪ রিপোর্ট বলছে, ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে ব্যবসা করছে ৬৬৭টি ব্রিটিশ সরকার। সেই ব্যবসার পরিমাণ ৪ হাজার ৭৫০ কোটি পাউন্ড। কর্মসংস্থানের সংখ্যা ৫ লক্ষ ১৬ হাজারের বেশি। এই ইতিবাচক প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যেও। ব্রিটেনে ব্যবসা করা ভারতীয় সংস্থাগুলির ৯৯ শতাংশই বিলেতের মাটিতে তাদের ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধি করতে চাইছে।আবার যেসব ভারতীয় সংস্থার উপস্থিতি বর্তমানে ব্রিটেনে নেই, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ব্যবসা শুরু করতে ইচ্ছুক। উলটোদিকে ব্রিটিশ সংস্থাগুলির ভারতের প্রতি আগ্রহের কারণ বিশাল বাজার, প্রতিভা ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্মিলিত সুবিধা। ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ হিসেবে ৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ সংস্থা ভারতের দ্রুত আর্থিক বৃদ্ধির বিষয়টির
উল্লেখ করছে। ৬০ শতাংশ সংস্থার আগ্রহের কারণ ভারতের বিশাল বাজার। আবার ৫৩ শতাংশ ব্রিটিশ সংস্থা মনে করছে, ভারতে দক্ষ কর্মী ও শ্রমিকের অভাব নেই। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কনসালটিং ও পেশাদারি পরিষেবা ক্ষেত্রের উল্লেখ করছে তারা। ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে স্টার্ট আপ ব্যবসার পথ আরও সরল হবে, ওপারেটিং কস্ট কমবে ও দুই দেশের মধ্যে প্রতিভার আদানপ্রদান আরও মসৃণ হবে বলেই প্রত্যাশা। বিশেষ করে সুবিধা হবে আইটি, ফিন্যান্স ও কনসালটিং সেক্টরের। সমীক্ষা চালানো ব্রিটিশ সংস্থাগুলির মধ্যে ৭৯ শতাংশই মনে করছে, এফটিএর ফলে বিনিয়োগের পরিবেশে আরও উৎসাহ আসবে।
গ্র্যান্ট থর্নটনের ইউকের পার্টনার ও সাউথ এশিয়া বিজনেস গ্রপের প্রধান অনুজ চান্দে বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বদল দেখছি। ব্রিটেনের মিড-মার্কেট সংস্থাগুলি আর জানতে চাইছে না, কেন ভারতে যাব। তারা এখন ভাবছে, কত শীঘ্র তা সম্ভব। ভারত-ব্রিটেন এফটিএ খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে।