


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘সব ঠিক আছে? কোনো অসুবিধা নেই তো?’ বাড়ির দরজায় ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং থানার ইনসপেক্টর ইন চার্জ (আইসি)। তাঁদের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। প্রশ্নকর্তা পুলিশ। এক যুবক প্রশ্ন শুনে বললেন, ‘ঠিক আছে স্যার। কিন্তু যদি কোনো প্রয়োজন হয়, তখন কি করব?’ আইসি তাঁর হাতে ধরিয়ে দিলেন একটি কাগজ। তাতে তাঁর নিজের মোবাইল নম্বর লেখা। সঙ্গে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের নম্বরও আছে। এমন অভিনব দৃশ্য দেখা গিয়েছে বাগুইআটিতে। সেখানকার স্পর্শকাতর এলাকায় এভাবেই ভোটারদের মোবাইল নম্বর দিয়ে আশ্বস্ত করছে পুলিশ। এর ফলে ভোটাররাও পাচ্ছেন স্বস্তি।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় যেখানে যেখানে অল্প-বিস্তর গণ্ডগোল হয়েছে, সেইসব স্পর্শকাতর এলাকা এবার বেছে নিয়েছে পুলিশ। তারপর সেখানকার ভোটাররা কেমন আছেন, তাঁদের কেউ ভয় দেখাচ্ছেন কি না, তাঁরা কী চাইছেন, এই সমস্ত খোঁজখবর নিচ্ছে। শনিবার বাগুইআটির পঞ্চাননতলা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট) ঐশ্বর্য সাগর এবং বাগুইআটি থানার আইসি অমিতকুমার মিত্র। তাঁরা একাধিক বাড়িতে ঘোরেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। এভাবে তাঁদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার কাজ করেন। আইসি প্রত্যেককে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেছেন, ‘কোনো প্রয়োজন পড়লে ফোন করবেন। বিধাননগর পুলিশ আপনার পাশে আছে।’ একই আশ্বাস দেন ডিসি ঐশ্বর্য সাগর। পুলিশকে এভাবে বাড়িতে পেয়ে আশ্বস্ত ভোটাররা। তাঁদের অনেকেই বললেন, ‘আমরা ভাবিনি। ভোটের আগে এভাবে পাড়ায় পুলিশ অফিসারদের দেখা পাব।’
প্রসঙ্গত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। ভোটে হিংসা, ভীতি প্রদর্শন, ছাপ্পা, বুথ দখল রুখতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ছ’টি গাইডলাইন কার্যকর করতে থানাগুলিতে গিয়ে বৈঠক করছেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার (সিপি) মুরলীধর। কমিশনের গাইডলাইন কার্যকর করার বিষয়ে সকলকে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। রবিবার বাগুইআটি থানায় গিয়েও অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করেন। কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, ‘হিংসা বন্ধ সহ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন, সব নেওয়া হচ্ছে।’ নিজস্ব চিত্র