


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওজন একশো কেজির বেশি। বিছানায় শোয়ার পর নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হতো। বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত ট্যাংরার দে পরিবারের ছোট ছেলে বাড়িতে বাইপ্যাপ মেশিন কিনেছিলেন। সেটি নাকে লাগিয়েই সারারাত ঘুমোতেন তিনি। স্ত্রী, মেয়ে ও বউদিকে খুনের অভিযোগে তার ঠিকানা এখন প্রেসিডেন্সি সংশোধানাগার। আরামপ্রিয় প্রসূনের জেলের দু’হাত বাই চারহাত জায়গায় থাকতে রীতিমতো অসুবিধা হচ্ছে। ওইসঙ্গে বাইপ্যাপ না-থাকায় ঘুমও হচ্ছে না ঠিকমতো। রাতভর দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না তিনি। আর ঘুমোলেও নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে তাঁর। বাইপ্যাপ চেয়ে এবার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবদার করলেন প্রসূন।
ট্যাংরার দে পরিবারের তিনজনের হাড়হিম করা খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, গোটা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ছোট ভাই প্রসূন দে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতেই তাঁকে গ্রেপ্তারও করে পুলিস। আদালতের কাছে জানান, গোটা ঘটনা তিনিই ঘটিয়েছেন। দোষ কবুল করার পর তাঁর গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয় আদালতে। তারপর থেকেই তাঁর ঠিকানা প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার।
জেল সূত্রের খবর, সেল থেকে বাইরে বেরন না প্রসূন। সারাক্ষণ নিজের মতোই থাকেন। অন্য বন্দিদের কাছে নিজের গল্প শোনান, কী ছিলেন আর এখন কী হয়েছেন এখন। ঋণের বোঝা চাপার পিছনে শুধু ব্যবসার মন্দা নয়, বিলাসবহুল জীবনযাপন যে দায়ী সেকথাই বারবার বলছেন জেলবন্দি অন্য অভিযুক্তদের। বাড়ির আরামকেদারা জেলে নেই। একটা কম্বল বিছিয়ে অন্যদের সঙ্গে গাদাগাগদি করে রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে মেঝেতে শোবার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে তাঁর। জেল কর্তৃপক্ষকে প্রসূন জানিয়েছেন, তাঁর নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। রাতে বিছানায় শুলে সেই সমস্যা আরও বাড়ে। দমবন্ধ হয়ে আসে তাঁর। বাড়িতে থাকার সময় বাইপ্যাপ চলত সারারাত। নাকে মেশিন লাগিয়ে ঘুমোতেন তিনি। এখানে সেটি না-থাকায় সারারাত জেগে থাকছেন প্রসূন। তাই তাঁর জন্য জেল কর্তৃপক্ষ বাইপ্যাপ মেশিনের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়, যাতে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন তিনি। কিন্তু এই মেশিন জেলে নেই। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি বাইপ্যাপ মেশিন কেনার জন্য আধিকারিকদের কাছে ফাইল গিয়েছে। তাতে অনুমোদন মিললেই এই যন্ত্র কিনে প্রসূনকে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।