


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের জন্য পিএম-উষা (পূর্বতন রুসা) প্রকল্পে ৯০০ কোটির বেশি অর্থমূল্যের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক প্রজেক্ট ছিল। কেন্দ্র ৩৫০ কোটি টাকা দেওয়ার পরেও ১৪৫টি প্রজেক্টে কাজ নাকি এখনও এগোয়নি। আগস্টে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠি দেওয়ার পরেও কাজ গতি পায়নি। সোমবার শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই অভিযোগ তোলেন। সাংবাদিকদের থেকে তা শুনে এই অভিযোগ এদিনই খারিজ করে বিবৃতি দিয়েছে ব্রাত্য বসু। তিনি স্পষ্টই বলেন, এই সংক্রান্ত কোনও চিঠি তিনি সুকান্ত মজুমদারের কাছ থেকে পাননি।
এ প্রসঙ্গে ব্রাত্যর বক্তব্য, রুসা এখন প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত। সেটি পিএম উষা হয়েছে। তার সঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতির এমন কিছু শর্ত যোগ করে কেন্দ্রের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে, যার সঙ্গে রাজ্য একমত নয়। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও রাজ্যের মানুষ। তাই তিনিই যাতে তদ্বির করে প্রকল্পের বাকি টাকা নিয়ে আসেন, সুকান্তর উদ্দেশে সেই উদ্যোগ নেওয়ার বার্তা দেন ব্রাত্য। এও বলেন, উনি নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে প্রায় হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩৫০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। ভবিষ্যতে কোনও চিঠি এলে এ নিয়ে তিনি ভেবে দেখবেন বলেও জানান।
এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ভাষা মেলার উদ্বোধনে হাজির ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, দেশে বহুত্ববাদ এখন আক্রমণের মুখে। বহুভাষার নীতিও কোণঠাসা। সেখানেই ভাষামেলার তাৎপর্য। আমাদের মাতৃভাষা তথা রাজ্যের সরকারি ভাষা বাংলার পাশাপাশি সব ভাষা, উপভাষাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় এখানে। এ রাজ্যে হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। তবে, অন্য কোনও রাজ্যে বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে বলে আমার জানা নেই। অথচ, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্রই বলেছেন, বাংলা কোনও ভাষা নয়। ভাষা নিয়ে রাজ্য সরকার যে কতটা উদার তা বোঝাতে তিনি উদাহরণ দেন, রাজ্যের অধীন স্বশাসিত সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গোয়েজ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (আইএলএসআর) বাংলার পাশাপাশি সংস্কৃত, হিন্দি, উর্দুর মতো ভাষাতেও বই প্রকাশ করে। বইগুলি বিনামূল্যে যাতে সবাই পড়তে পারেন, তাই সেগুলি ওয়েবসাইটেও তুলে দিতে বলেছেন তিনি। রাজ্য সরকার রাজবংশী অ্যাকাডেমি করেছে, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।