


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি (বুনিয়াদি স্তর) পর্যন্ত পাঠদানরত শিক্ষকদের টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (টেট) উত্তীর্ণ হতেই হবে। ১ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার চারমাসেরও বেশি সময় পরে টনক নড়েছে কেন্দ্রের। জানুয়ারিতে তারা রাজ্য শিক্ষাদপ্তরকে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, এই নির্দেশের ফলে ঠিক কতজন শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পাশাপাশি, এই শিক্ষকদের স্বস্তি দিতে রাজ্যগুলির কোনও পরিকল্পনা থাকলে, তাও জানানো হোক। ১৬ জানুয়ারির মধ্যে এই রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র।
রায় অনুযায়ী, পাঁচবছরের বেশি সময় চাকরি রয়েছে, এমন শিক্ষকরা আবশ্যিক টেট-এর আওতায় পড়বেন। রায়ের দু’বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের টেট উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতদিনে কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করেছে, এর ফলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক সমস্যায় পড়বেন। পেশাজীবনের শেষপ্রান্তে এসে এটা যেমন তাঁদের পক্ষে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করবে, তেমনই আর্থিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, এই শিক্ষকরা স্কুল থেকে বেরিয়ে গেলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হবে, তাতে রাজ্যগুলির শিক্ষাব্যবস্থাই কার্যত ভেঙে পড়বে। সেই কারণে সুনির্দিষ্ট ফরম্যাটে এই শিক্ষকদের সংখ্যা এবং তাঁদের নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, এও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, সমস্ত তথ্যই যে পুরোপুরি সঠিক, তা নিশ্চিত করেই যেন পাঠায় রাজ্যগুলি। প্রসঙ্গত, এরাজ্যে একপ্রস্থ এই হিসেব হয়েছে। তবে, শিক্ষকদের একাংশের বিরোধিতার ফলেই তা নিয়ে বিশেষ এগোয়নি সরকার। শিক্ষকদের দাবি, আইনি লড়াইয়ে গিয়েই জিতে আসতে হবে রাজ্যকে। এ ধরনের শিক্ষক শুমারিতে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পরে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষকরা তো বটেই, অনেক শিক্ষক সংগঠন কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে চিঠি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর পাশাপাশি, সরকারি তরফেও গিয়েছে চিঠি। পশ্চিমবঙ্গসহ বহু রাজ্যই নির্দেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও। অনেক রাজনৈতিক দলও সরাসরি এবং বকলমে মামলায় নেমেছে। উদ্বেগ জানিয়ে অজস্র চিঠি পাওয়ার কথাও কেন্দ্র স্বীকার করে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গেও দেখা করেছেন এরাজ্যের বিজেপিপন্থী শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, এই বিষয়ে স্বস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে আশ্বাসই মিলেছে সুকান্ত মজুমদারের তরফে। তবে, এই ঘটনায় পুরোপুরি স্বস্তি না-পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা কোনও আশ্বাসেই ভুলছেন না।
এরাজ্যে রাইট টু এডুকেশন (আরটিই) আইন কার্যকর হয়েছে অনেক পরে। তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপেই এরাজ্যের ক্ষেত্রে তা বিলম্বিত হয়। সেই আইনের ভিত্তিতেই টেটকে আবশ্যিক করা হয়েছে। ছাড়ের ফলে অনেক শিক্ষকই টেট না দিয়ে, অন্য লিখিত পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাদার কোর্সের ডিগ্রি এবং ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন। আর পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের সংখ্যা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই বেশি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। তাই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে কেন্দ্র তাঁদের সহমর্মী ইমেজ তুলে ধরতে চাইছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন শিক্ষকরা।