


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৭ বছরের এক নিখোঁজ নাবালিকা উদ্ধারের তদন্তে নেমে খোঁজ পেয়েছিলেন মানবপাচার চক্রের। স্বাস্থ্যস্বাথী কার্ডের সূত্র ধরে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেন ঝাড়গ্রাম থানার আইসি বিপ্লব কর্মকার। পাচারচক্রের মাথাসহ চারজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঝাড়গ্রাম আদালত। সাব-ইনস্পেক্টর তারিফ আজিজ আবার বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাওয়া নাবালিকা ও দু’বছর যাবৎ নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করেন। এরকম অবদানের জন্য সোমবার রাজ্য শিশু সুরক্ষা দিবসে বিপ্লব কর্মকার, তারিফ আজিজসহ ছয় পুলিস কর্মীকে ‘শ্রেষ্ঠ শিশুবান্ধব পুলিস’ সম্মানে ভূষিত করল পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা আয়োগ। সম্মানিত বাকি পুলিস কর্মীরা হলেন যথাক্রমে সুনীলবরন জানা, ইতি নাহা, মৌ হিরা ও পেমালা শেরপা।
সোমবার সকালে রবীন্দ্রসদনে পালিত হল রাজ্য শিশু সুরক্ষা দিবস। এবারের থিম, ‘মনের কথা কই।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী, শিশুকল্যাণ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে চারশোরও বেশি শিশু অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে ছ’জন পুলিস কর্মীকে সম্মানিত করার পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ শিশু আবাস ২০২৫-এর পুরস্কার দেওয়া হল তিনটি হোমকে। বর্ধমানের চিলড্রেন হোম ফর গার্লস, পশ্চিম মেদিনীপুরের যমুনা শিশু আবাস ও বীরভূমের নবীনা হোম ফর গার্লসকে। মঞ্চে মন্ত্রী শশী পাঁজা বলছিলেন, ‘এই বিশেষ দিনটি প্রতিবছরই পালন করা হয়। শিশু সুরক্ষা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের স্বীকৃতি দিতে পেরে ভালো লাগছে। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানের শেষে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতনাতমূলক বার্তাও দেয় শিশুরা। শ্রেষ্ঠ শিশুবান্ধব পুলিসের পুরস্কার পেয়ে বিপ্লব কর্মকার বলছিলেন, ‘পুরস্কার পেতে কার না ভালো লাগে! তবে তার চেয়েও বেশি ভালো লাগে, যখন শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি, কোনও নিখোঁজ শিশুকে ঘরে ফেরাতে পারি।’