


সিওল, ১ এপ্রিল: এ এক বিরল দৃশ্য। আমেরিকাকে ঠেকাতে হাতে-হাত রাখল চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। যাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা চলছে গোটা বিশ্বে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিকে ঠেকাতে একছাতার তলায় এসেছে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াবে এশিয়ার এই তিন দেশ। গত রবিবার অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তিন মন্ত্রী। দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। যাতে উপস্থিত ছিলেন সেদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী আন ডুক গিউন, জাপানের অর্থমন্ত্রী ইয়োজি মুটো ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রী ওয়াং উয়েনটাও। গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম একসঙ্গে আলোচনায় বসে এশিয়ার এই তিনটি দেশ।
সূত্রের খবর, আমেরিকার শুল্ক নীতিকে ঠেকাতে আঞ্চলিক স্তরে বাণিজ্যিক চুক্তিতে যাওয়ার কথা হয়েছে এই তিন দেশের মধ্যে। কারণ আগামী ২ এপ্রিল ট্রাম্প নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণা করবেন। যার ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর বড় অঙ্কের শুল্ক বসানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। এই শুল্ক চাপলে বিরাট বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। ধাক্কা খাবে আন্তর্জাতিক স্তরে বাণিজ্যও। তাই আগেভাগেই নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে আমেরিকাকে ঠেকাতেই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে এই তিন দেশ। তাই আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতির সরাসরি প্রভাব পড়বে তাঁদের দেশেই। ইতিমধ্যেই বেজিংয়ের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। যার ফলে ধাক্কা খেয়েছে চীনের অর্থনীতি। আগামী ২ এপ্রিলের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। তাই কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
সূত্রের খবর, রবিবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য চীন থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল আমদানি করবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। পাশাপাশি চীপ সংক্রান্ত প্রোডাক্ট জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করার পথে হাঁটবে বেজিং।