


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দোল ও হোলিতে কলকাতা শহর সহ আশপাশের জেলা, শহরতলিতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। পাশাপাশি, যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলাতে সজাগ প্রশাসনও। সর্বত্র কমবেশি সতর্কতা অবলম্বন করেছে পুলিস। জারি হয়েছে বিধি-নিষেধ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রীদের আরও সজাগ থাকতে বলেছেন। তিনি রাজ্যবাসীকে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। কলকাতা-বারাকপুর থেকে কাকদ্বীপ, হুগলি, হাওড়া সর্বত্র সতর্ক পুলিস প্রশাসন। শহরজুড়ে মোতায়েন থাকবে ৪০০০ পুলিস। বাহিনী টহলদারি করবে। প্রতিটি গঙ্গার ঘাটে নজরদারি চলবে। পাশাপাশি, বারাকপুর শিল্পাঞ্চল শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিসের বিশেষ টহল শুরু হয়েছে। পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। পুলিস কমিশনার অজয় ঠাকুর প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোলমালের আশঙ্কায় ইতিমধ্যে ভাটপাড়া, জগদ্দল, টিটাগড়ের মতো জায়গায় সশস্ত্র পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দোল উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আচমকাই অভিযান চালায় কাকদ্বীপ থানার পুলিস। বাজারের প্রতিটি রঙের দোকানে গিয়ে হানা দেয়। নেতৃত্বে ছিলেন কাকদ্বীপ থানার আইসি সঞ্জয় বিশ্বাস। রঙের সঙ্গে কোনও কেমিক্যাল মেশানো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। ব্যবসায়ীদের ভেষজ রং ও আবির বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারজুড়ে মাইকিংও করা হয়। কাকদ্বীপের এসডিপিও প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুক্রবারও রঙের দোকানগুলির উপর নজর থাকবে। অভিযোগ পেলেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উৎসব চলছে চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর, কোন্নগর, রিষড়া, চণ্ডীতলায়। চণ্ডীতলা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধক্ষ্য সুবীর মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের উদ্যোগে প্রভাতফেরির আয়োজন করা হয়। রিষড়ায় বসন্ত উৎসব, আলপনা উৎসব পালন করা হয়। সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বাচ্চাদের সঙ্গে চুঁচুড়া পুরসভায় দোল উৎসব পালন করেন। চুঁচুড়ার বিভিন্ন ঘাটে আগে একাধিকবার দোল, হোলির সময় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই এবার আগেভাগেই সতর্ক পুলিস। চুঁচুড়ার বিপজ্জনক ঘাটগুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে। কোনও ঘাটেই স্নানের জন্য নামা যাবে না।