


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাঁশকুড়ার গোসাইবেড় বাজারে চিপস চুরির অভিযোগে সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার করা হল সিভিক ভলান্টিয়ারকে। ধৃতের নাম শুভঙ্কর দীক্ষিত। কোলাঘাটের জিঞাদা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে তোলা হয়। বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২৫ মে নিহত ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাসের মা সুমিত্রা দাস পাঁশকুড়া থানায় শুভঙ্কর, তার দাদা, স্ত্রী ও বাবার বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। তারপর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তাঁকে কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছিলেন পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। ১৫ দিন আত্মগোপন করে থাকার পর শেষমেশ পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখ্য, গোসাইবেড় বাজারে একটি দোকান থেকে চিপসের প্যাকেট চুরির বদনাম দেওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে কৃষ্ণেন্দু দাস আগাছানাশক রাসায়নিক খেয়ে নিয়েছিল। ১৮ মে ওই ঘটনার পর তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ মে তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, দোকানের সামনে ওই চিপসের প্যাকেট পড়েছিল। সেটি তুলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল কৃষ্ণেন্দু। আর সেজন্য তাকে চোর অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করা হয়। কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছিল। দোকানদার তথা সিভিক ভলান্টিয়ারের দিকে ওই অভিযোগ ওঠায় তাঁর বিরুদ্ধে গণরোষ তৈরি হয়েছিল। যেকারণে ময়নাতদন্তের পর ছাত্রের দেহ সরাসরি ওই সিভিকের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বাড়ি ভাঙচুরও হয়। কয়েকদিন তাঁর বাড়ির সামনে পুলিস ক্যাম্প বসাতে হয়। মৃত ছাত্রের মা সুমিত্রা দাস বলেন, ছেলের আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিসের কোনও সহযোগিতা পাচ্ছিলাম না। বরং যাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের টার্গেট করা হয়েছিল। পরিস্থিতির চাপে শেষমেশ পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আমি ধৃতের শাস্তি চাইছি।