


ইসলামাবাদ: ‘অপারেশন সিন্দুরে’ একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের পরই মরাকান্না শুরু করেছিল পাকিস্তান। কার্যত শহিদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল সন্ত্রাসবাদীদের। জাতীয় পতাকায় মুড়ে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল ইসলামাবাদ। সেখানে হাজির ছিলেন সেনা, পুলিসকর্তা থেকে তাবড় রাজনীতিবিদরাও। তবে এখানেই শেষ নয়, জঙ্গিদের জন্য এবার মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ভারতের হানায় মৃতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। জখমরা পাবেন ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। শুধু জয়েশ-ই-মহম্মদ প্রধান তথা আন্তর্জাতিক জঙ্গি মাসুদ আজহারকেই ১৪ কোটি টাকা দিতে চলেছে পাকিস্তান সরকার। কেন? ভারতের প্রত্যাঘাতে বাহওয়ালপুরের জঙ্গিঘাঁটিতে থাকা তার পরিবারের ১০ সদস্য ও ৪ সহযোগীর মৃত্যু হয়েছিল। তারপরই সরকারের তরফে তাকে সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন মন্ত্রীসান্ত্রীরা। এবার বিপুল ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বজনহারা জঙ্গি নেতার ক্ষতে অর্থের প্রলেপ লাগাতে তৎপর শাহবাজ শরিফ প্রশাসন। ভারত বারবার বলেছে, প্রমাণও করেছে পাকিস্তান সরকার, সেনা ও জঙ্গি সংগঠনগুলির নিবিড় সম্পর্কের কথা। কিন্তু, প্রত্যেকবার তা নস্যাৎ করে চেনা ফর্মুলাতেই হেঁটেছে ইসলামাবাদ। কিন্তু, এবার যেভাবে নিহত জঙ্গিদের জন্য সরকার বিপুল আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করল, তাতে পাক সরকারের দ্বিচারিতা বেআব্রু হয়ে গেল বলেই মত তথ্যাভিজ্ঞ মহলের। তাই পাকিস্তানকে যাতে আইএমএফ তহবিল না দেয়, সেই দাবি ফের জোরালো হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার পাল্টা গত ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছিল ভারত। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ ও অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। তারপরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমাদের পদক্ষেপ সুনির্দিষ্ট, পরিমিত ও অপ্ররোচনামূলক।’ এমনকী পাক সেনার কোনও পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়নি। যদিও পাকিস্তান দাবি করে, ভারতের হামলায় শিশু, মহিলা সহ বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক ভিডিও এবং তথ্য প্রকাশ করে সেই মিথ্যাচারের পর্দাফাঁস করে দিয়েছে ভারত। ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানিয়েছিলেন, অপারেশনে শতাধিক জঙ্গিকে নিকেশ করা গিয়েছে। এছাড়া, বাহওয়ালপুরে মাসুদ আজহারের জামিয়া মসজিদ সুভান আল্লা ক্যাম্পাসের বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়। জানা গিয়েছে, ভারতের সংসদ ভবন থেকে শুরু করে পুলওয়ামা হামলা—একাধিক নাশকতার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রায় ১৩ একর এলাকায় জড়িয়ে থাকা এই ক্যাম্পাসেই জয়েশ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ চলত। সেই সঙ্গে তৈরি হতো নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট। ৭ মে রাতে সেই ঘাঁটিই ধ্বংস করে দিয়েছে ভারত।
ইসলামাবাদ সূত্রে খবর, জঙ্গিদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি, দপ্তরগুলিও ফের তৈরি করে দেওয়া হবে। শাহবাজ শরিফ সরকারের এই ঘোষণাতেই নতুন করে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তাদের ব্যাখ্যা, অপারেশন সিন্দুরে বেছে বেছে জঙ্গি ঘাঁটিকেই নিশানা করেছে ভারত। সাধারণ মানুষের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। একথা বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত। এসংক্রান্ত প্রমাণও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও ভারতের হানায় ছারখার জঙ্গিদের মাথার ছাদ ফিরিয়ে দিতে তৎপর পাকিস্তান। তাই বিপুল আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে।