


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাহারিনের আকাশে আলোর ঝলকানি দেখলেই বারাসতের হরিতলার কেএএনসি রোড সংলগ্ন চৌধুরী পরিবারে নেমে আসছে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কর্মসূত্রে সেখানে থাকা সৈকত চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। টিভি ও মোবাইলে অহরহ যুদ্ধের খবর দেখছেন পরিবারের সদস্যরা। বাড়ছে উদ্বেগ।
বহু বছর ধরে বাহারিনে বাস করছেন সৈকত। সেখানে তিনি চাকরি করেন। সঙ্গে রয়েছে স্ত্রী শীলা চৌধুরী দত্ত ও দুই সন্তান। শনিবার ইরান থেকে ছোড়া বোমায় বাহারিনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই বিস্ফোরণের অভিঘাত পৌঁছয় সৈকতদের আবাসনের কাছাকাছি। সেই ছবিও পাঠিয়েছিলেন সৈকত। তারপর থেকেই কার্যত যোগাযোগহীন পরিবারটি। সৈকতের দাদা শান্তনু চৌধুরী বলেন, সৈকতের বাসস্থানের পাশের একটি আবাসন বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির কাচের জানালা চুরমার।
ছাদের উপর রাখা গাছের টব ছিটকে পড়েছে রাস্তায়। যে ব্লকে সৈকতরা থাকেন, তার দু’টি ব্লক দূরে হামলা হয়েছে। এই সপ্তাহে শান্তনু, তাঁর স্ত্রী শম্পা ও মা রিনাদেবীর বাহারিনে যাওয়ার কথা ছিল। টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল আগেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে পা রাখা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গভীর সংশয়ে পরিবার। একদিকে প্রিয়জনের খোঁজ
নেই, অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা —দু’য়ের চাপে উড়েছে খাওয়া-ঘুম। বারবার ফোন, মেসেজ, অনলাইন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও সাড়া নেই। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার তাদের আবাসনের
পাশে বিস্ফোরণের ছবি সে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে আর কথা হয়নি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত সৈকতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করবে সদস্যরা। প্রয়োজনে সরকারি সাহায্য চাওয়ার কথাও ভাবছেন তাঁরা। সৈকতের মা রিনা চৌধুরী বলেন, শনিবার শেষ কথা হয়েছে ছেলে, বউমা ও নাতির সঙ্গে। কিন্তু তারপর দু’দিন কেটে গেলেও যোগাযোগ নেই। ফোন করেই যাচ্ছি, উত্তর আসছে না। ওরা কেমন আছে, কি করছে তা জানতে পারছি না। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমাদের চিন্তা হচ্ছে। বারাসতের বাড়িতে বসে টিভির পর্দায় ভেসে ওঠা প্রতিটি বিস্ফোরণের ছবি বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছে চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের। এখন তাঁদের একটাই প্রত্যাশা—একটি ফোনকল, একটি খবর, যা জানাবে সৈকত ও তাঁর পরিবার নিরাপদে।
অন্যদিকে, বারাসতের নওপাড়া কালীবাড়ির শংকর দাসের পরিবারও একই উৎকণ্ঠা। তাঁর মেয়ে সুলেখা দাস কর্মসূত্রে রয়েছেন বাহারিনে। শনিবারের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ থাকলেও পরিস্থিতির অনিশ্চয়তায় মন স্থির হচ্ছে না। শংকর দাস বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের আগে চাই সে নিরাপদে বাড়ি ফিরুক। ফোনে কথা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু দুশ্চিন্তা কাটছে না। এমত পরিস্থিতিতে যদি ভারত সরকার মেয়েকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন, পাশাপাশি যারা ওখানে রয়েছে তাদেরও নিরাপদে ফেরান, তবে আমরা ধন্যবাদ জানাব সরকারকে।