


ওয়াশিংটন: সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে বাংলাদেশে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে মুখ পুড়ছে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের। সম্প্রতি ময়মনসিংহে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে দীপু দাস নামে এক হিন্দু যুবককে। এবার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দায় সরব হল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, আমেরিকা যে কোনও রকমের ধর্মীয় হিংসার কড়া নিন্দা করে। বাংলাদেশের সমস্ত সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই বার্তায় ইউনুস সরকারের উপর চাপ বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও হিংসা বন্ধে ইউনুস প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছে মার্কিন বিদেশ দপ্তর। বাংলাদেশের চলতি ধর্মীয় হিংসা ও বিদ্বেষ নিয়ে সরব হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য রো খান্নাও। তাঁর মতে, এধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সকলের সরব হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে পালা বদলের পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মূলত হিন্দুদের উপর একের পর এক আক্রমণ চলছে। সম্প্রতি দীপুর মৃত্যুর জেরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। তুমুল উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছিল, মৌলবাদীদের দ্বারা সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর আক্রমণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইউনুস সরকারকে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। যদিও ভারতের বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ ঢাকা। হিন্দুদের উপর আক্রমণকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সেদেশের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, গোটা বিষয় নিয়ে ভারত ভুল ও অতিরঞ্জিত মন্তব্য করেছে।
অন্যদিকে, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে শনিবার লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ দেখান বাঙালি হিন্দু আদর্শ সংঘ-ব্রিটেনের সদস্যরা। শুক্র ও শনিবার নেপালের বীরগুঞ্জ, জনকপুরধাম, গোলবাজারেও প্রতিবাদ জানিয়েছে একাধিক সংগঠন। কিছুক্ষণের জন্য ইস্ট-ওয়েস্ট হাইওয়ে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা।