


ঢাকা: জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে জোট গড়ার খেসারত। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে ভাঙনের মুখে বৈষম্যবিরোধী পড়ুয়াদের দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। জামাতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে দল ছেড়েছেন ডাঃ তাসনিম জারা ও ডাঃ তাজনুভা জাবিন নামের দুই শীর্ষ নেত্রী। তাঁদের ইতিমধ্যেই মনোনয়ন দিয়েছিল এনসিপি। এছাড়া আরও ৩০ জন বিক্ষুব্ধ নেতা-নেত্রী একসঙ্গে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন। অনেকে প্রকাশ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন, কারও সঙ্গে কথা না বলেই একতরফাভাবে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বদল না হলে তাঁরাও ইস্তফা দেবেন। বিক্ষুব্ধদের দাবি, জামাত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। এছাড়া জামাত যে মতাদর্শে বিশ্বাসী, তা এনসিপির মতাদর্শের পরিপন্থী। বিশেষ করে মহিলাদের নিয়ে তাদের মনোভাব বিতর্কিত। ফলে জামাতের সঙ্গে জোট হলে এনসিপির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন। তার আগে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সামাল দিতেই জেরবার হচ্ছেন এনসিপির জোটপন্থী নেতারা। এখন সরকারি ঘোষণা না হলেও সূত্রের খবর, দু-একদিনের মধ্যেই জামাতের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়ে যাবে।
গত বছর শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল পড়ুয়াদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই সংগঠনেরই বড়ো অংশ রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি গঠন করে। প্রাথমিকভাবে এনসিপির জনপ্রিয়তা থাকলেও বিভিন্ন ইশ্যুতে তাদের অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পাল্লা দিয়ে কমেছে জনপ্রিয়তাও। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে জিততে জামাতের উপরই ভরসা করছে এনসিপি নেতৃত্বের একাংশ। কিন্তু এর বিরোধিতা করে গত বৃহস্পতিবার প্রথম পদত্যাগ করে বিএনপির পথে মির আরশাদুল হক। এরপর শনিবার ইস্তফা দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডাঃ তাসনিম জারা ও তাঁর স্বামী। ঢাকা-৯ আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছিল এনসিপি। এখন তিনি নির্দল হিসেবে লড়বেন। তাসনিমের স্বামী তথা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সইফুল্লাহও পদত্যাগ করেছেন। এরপর রবিবার দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডাঃ তাজনুভা জাবিন। ঢাকা-১৭ আসনে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। জোট প্রসঙ্গে ফেসবুক পোস্টে তাজনুভা লিখেছেন, ‘এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি।’ এদিনই দলের আর এক শীর্ষ নেত্রী সামান্তা শারমিনও জানিয়েছেন, জামাতের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতা করলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।