


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আবারও ‘ঐতিহাসিক’ ভুল! স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমান করল কেরলের সিপিএম সরকার। সেটাও আবার স্কুলপাঠ্যে। মাত্র চারদিন আগেই দেশজুড়ে পালিত হয়েছে ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস। গত ১৮ আগস্ট ছিল দেশনায়কের অন্তর্ধান দিবস। তার মধ্যেই সামনে এল কেরলের সরকারি পাঠ্যপুস্তকের খসড়ায় নেতাজির নিষ্ক্রমণ নিয়ে তথ্য-বিকৃতি। রীতিমতো কুরুচিকর ভাষায় সেখানে লেখা হয়েছে, ‘ব্রিটিশদের ভয়ে জার্মানিতে পালিয়ে গিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।’ বিষয়টি সামনে আসার পরই শুধু বসু পরিবার নয়, প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে দেশজুড়ে। গর্জে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। চাপের মুখে ভুলস্বীকার করেছে কেরলের সিপিএম সরকার। ক্ষমা চেয়েছেন সেরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবানকুট্টি। এমনকী, তড়িঘড়ি ওই পাঠ্যপুস্তক ছাপা বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের। কেন্দ্রের গেরুয়া শাসকের অঙ্গুলিহেলনে দেশজুড়ে বাঙালিদের অপমানের ‘খেলা’ শুরু হয়েছে। বাংলার ইতিহাস বদলানোর চেষ্টা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে কেরলের সিপিএম সরকারের এই ‘কুকীর্তি’ গোটা বিতর্কে নয়া মাত্রা যোগ করল।
‘সাম্রাজ্যবাদের দালাল’ থেকে ‘তোজোর কুকুর’— নেতাজিকে কম নিন্দেমন্দ করেনি অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি। যদিও পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন, নেতাজি সম্পর্কে অতীতের মূল্যায়ন সঠিক ছিল না। গত দেড়-দু’দশক ধরে ২৩ জানুয়ারিকে দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতেও সরব তাঁর দল। ২০২২ সালে দলের ২৬তম রাজ্য সম্মেলনের পোস্টারে পর্যন্ত ছিল নেতাজির ছবি। কিন্তু সিপিএম যে অতীতের অবস্থানেই অনড়, তার প্রমাণ দিল কেরলের ঘটনা। ২০১১ সালে বাংলায় বাম বিদায়ের পর এখন দেশের মধ্যে লাল পার্টির সরকার রয়েছে একমাত্র দক্ষিণের ওই রাজ্যে। জানা গিয়েছে, কেরলে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য একটি ‘হ্যান্ডবুক’ তৈরি করেছে পিনারাই বিজয়নের সরকার। তার দায়িত্বে ছিল কেরল স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং। চতুর্থ শ্রেণির ওই ‘হ্যান্ডবুকে’র খসড়াতেই তথ্য বিকৃত করে ‘চরমতম অপমান’ করা হয়েছে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম প্রধান কারিগর নেতাজিকে।
পড়ুয়াদের বিকৃত ইতিহাস শেখানোর জন্য কেরলের সিপিএম সরকার কেন এতটা তৎপর? প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘সিপিএম সবজান্তা, সর্বজ্ঞানী বলে নিজেদের মনে করে। কিন্তু কেরলের সিপিএম সরকার যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে প্রমাণ হয় তারা বাঙালি বিরোধী। ওটা অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়, দেশনায়ককে অপমান করে বাঙালি বিরোধী মনোভাব পেশ করেছে সিপিএম। এই ঘটনার জন্য সিপিএমের উচিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।’ নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসুর সাফ কথা, ‘নেতাজিকে ব্রিটিশরা ভয় পেত। যে নেতাজিকে দেখা মাত্র গুলি করার নিদান ছিল, তিনি ভয়ে পালিয়ে যাবেন কেন? ক্ষমাহীন ভুল করেছেন কেরলের পাঠ্য পুস্তক প্রকাশের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। যাঁরা ভুল তথ্য ছেপেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’