


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্সবেই নিহিত রয়েছে জনসংযোগের বীজ, আপাতত সিপিএমের ছাত্র-যুবরা এতেই বিশ্বাস করছেন। কালীগঞ্জে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হওয়া শিশু তামান্নার জন্মদিনে ‘বসে আঁকো’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল তারা। এবার সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবার্ষিকীতে ছাত্র যুব উত্সবের ঘোষণা করল এসএফআই-ডিওয়াইএফআই। এই বামেরাই রাজ্য সরকারকে ‘মেলা-খেলা-উত্সবের সরকার’ বলে কটাক্ষ করে থাকে। এবার তারাই উত্সবে গা ভাসাচ্ছে। যুব নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল সরকারের সঙ্গে তাদের তফাত রয়েছে।
মঙ্গলবার দীনেশ মজুমদার ভবন থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ছাত্র যুব উত্সব’-এর ঘোষণা করেন নেতৃত্ব। এর পাশাপাশি ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা বলেন, ‘কাজ-শিক্ষার দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর আমরা আন্দোলনে নামছি। ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্ব বর্ধমানে স্বাধীনতা সংগ্রামী বটুকেশ্বর দত্তের বাড়ি থেকে দু’দিনের পদযাত্রা হবে। বাংলার সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বাড়ি, মূর্তি থেকে ডিওয়াইএফআই মিছিল করবে।’ ১৬ আগস্ট থেকে সব ইউনিটে উত্সব শুরু হবে। তামান্না, অভয়া, আনিস খান, বিদ্যুত্ মণ্ডলের পরিবারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউনিটের পর লোকাল কমিটি ও সেপ্টেম্বরের শেষে রাজ্যস্তরে এই উত্সব হবে। কবিতা, সংগীত, বসে আঁকো, ক্রীড়া, প্রবন্ধ, নৃত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত উত্সবেই ভরসা রাখতে হল সিপিএমের ছাত্র-যুবদের? এই প্রশ্নের উত্তরে ধ্রুব বলেন, ‘বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পঞ্চায়েত, পুরসভা, ব্লক, জেলা, রাজ্য স্তরে ছাত্র যুব উত্সব হতো। তৃণমূল ছাত্র যুব উত্সব তুলে দিয়ে একটা রঙ্গমঞ্চে পরিণত করেছে। বাংলার সংস্কৃতিকে বাঁচানোর জন্য এই উত্সব দরকার। আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বিষয় হিসেবে রেখেছি। বাংলা, অলচিকি, উর্দু, হিন্দি সমস্ত ভাষার মানুষকে এককাট্টা করতে চাইছি। তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের ভাবনা মিলবে না।’