


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: হরিপালের দ্বারহাট্টা বাবুপাড়াতে রয়েছে একটি পোড়ামাটির আটচালা রাজরাজেশ্বর মন্দির। প্রায় ৩০০ বছর আগে তৈরি এই মন্দির দর্শন করতে আজও দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষের সমাগম হয়। এই নারায়ণ মন্দিরের প্রবেশদ্বার পূর্বমুখী, তিন খিলানযুক্ত। মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট এবং প্রস্থ ২১ ফুট। মন্দিরের সামনের দেয়ালে পোড়ামাটির ফলকে ফুটে উঠেছে রাম রাবণের যুদ্ধ, কৃষ্ণের নৌকা বিলাস, দুর্গা, মহাবীর ,লক্ষ্মী, সরস্বতী, অর্জুন, পর্তুগিজ সৈন্যদের চিত্র। ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি সংরক্ষণের জন্য ১৯৮৪ সালে রাজ্য সরকার এর দায়িত্ব নেয়।
আটজন সেবায়েত এই মন্দিরের দেখভালের দায়িত্ব রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন অনুপ সিংহরায়। তিনি জানান, সেই সময় রাজস্থানের যোদ্ধাদের আনা হতো এই রাজ্যে। আমাদের পূর্বপুরুষ মথুরা সিং রাজস্থান থেকে এই রাজ্যে এসেছিলেন। বর্ধমানের মহারাজ তাঁকে এই এলাকার জমিদারিত্ব দিয়েছিলেন। মথুরা সিংয়ের পুত্র জয় সিং ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তিনিই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দিরে লেখা সাল অনুযায়ী দেখা যায়, ১১৩৫ বঙ্গাব্দে এই মন্দির তৈরি হয়েছিল। বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিল্পীদের নিয়ে আসা হয়েছিল মন্দির তৈরি করার জন্য। মূল মন্দিরের সামনে তিনটি শিব মন্দিরও তৈরি করা হয়। রাজ্য সরকার দায়িত্বভার নেওয়ার পর ২০১৯ পর্যন্ত দু’বার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়েছে। সিং পদবী থেকে সিংহ এবং পরবর্তী সময় মহারাজের দেওয়া রায় পদবী যোগ হয়ে বর্তমানে আমরা সিংহরায় নামে পরিচিত। মন্দিরের পুরোহিত কালীপদ বটব্যাল ও তাঁর ছেলে বর্তমানে পুজো করেন। জন্মাষ্টমী, দোল, রাস উৎসব বিশেষ করে পালিত হয় এখানে। সন্দেশ, পায়েস, ক্ষীর প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয়। এছাড়া জন্মাষ্টমীতে তালের তৈরি খাদ্যসামগ্রী থাকে প্রসাদের তালিকায়। মন্দিরের ভিতরে কোনও বিগ্রহ নেই। নারায়ণ শিলা পুজো হয়। রোজ সকালে মন্দিরে পুজো হয়, অন্যান্য সময় মন্দিরের গর্ভগৃহ বন্ধ থাকে। তবে দর্শনার্থীরা মন্দির এলাকায় প্রবেশ করে মন্দির দর্শন করতে পারেন। নিজস্ব চিত্র