


সংবাদদাতা, পতিরাম: বেপরোয়া ছিলই,এবার ভূ-মানচিত্রই বদলে দিচ্ছে বালি পাচারকারীরা! ট্রাক্টর নামার রাস্তা তৈরি করতে আত্রেয়ী নদীর গতিপথ আটকে কৃত্রিম বাঁধ দিচ্ছে তারা। তার জেরে আরএলআইয়ের পাম্প থেকে আর জল উঠছে না বলে বালুরঘাটের বোল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিহরপুরের কৃষকদের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের হুমকি দিচ্ছে মাফিয়ারা। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এবার কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন কৃষকরা। বুধবার তাঁরা জেলাশাসকের কাছে গিয়ে অবিলম্বে এর একটা বিহিত চেয়ে স্মারলিপি দিয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও রাজস্ব) হারিশ রসিদ বলেন, বালি চুরি নিয়ে পুলিস সুপারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সব জায়গাতেই আমরা অভিযান বাড়াচ্ছি। কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কৃষকদের জলের ব্যবস্থা করা হবে।
ডিএসপি (সদর) বিক্রম প্রসাদ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হরিহরপুর গ্রামের পাশ দিয়েই গিয়েছে আত্রেয়ী নদী। পাশেই জলসম্পদ ও অনুসন্ধান বিভাগের আরএলআইয়ের পাম্প রয়েছে। তার কিছুটা আগেই বালি মাফিয়ারা কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে চরে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেছে। ওই জায়গাটি দুর্গম বলে ভূমি দপ্তর অভিযান চালালেও ট্রাক্টর ধরতে পারে না। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েই বাড়বাড়ন্ত পাচারকারীদের। গত সপ্তাহে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কৃষকরা। এরপর থেকেই কৃষকদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে মাফিয়ারা। কয়েকজনকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়।
হরিহরপুরের কৃষক জয়নুল মণ্ডল বলেন,আমাদের জমিতে এখন জলের খুব প্রয়োজন। কিন্তু বালি পাচারকারীরা বাঁধ দেওয়ার ফলে জল না পাওয়ায় ফসলের চরম ক্ষতি হচ্ছে। জল আটকে বালি চুরির জন্য আমাদের খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বাড়িতে গিয়ে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আর এক কৃষক সৌভিক সরকারের কথায়, বালি মাফিয়াদের অত্যাচার ও হুমকিতে আমরা খুবই আতঙ্কে রয়েছি। প্রশাসন দ্রুত আমাদের জলের ব্যবস্থা করে দিক এটাই চাই। আমরা সমস্যার সমাধানের দাবি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।
সম্প্রতি আত্রেয়ীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে নদীর জল শুকিয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে বালি পাচারের পরিমাণ বেড়েছে। বালুরঘাটের প্রায় সব নদীচরেই চলছে অবাধে বালি পাচার। কিন্তু এদিন ওই কৃষকদের এমন অভিযোগের পর প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেচ, আরএলআই ও ভূমি দপ্তরের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।