


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দার্জিলিং-সহ এরাজ্যে চায়ের উৎপাদন কমে গিয়েছিল অনেকটাই। তা ফের বাড়ল চলতি বছরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে যে উৎপাদন হয়েছিল, তার সঙ্গে চলতি বছরের ওই একই সময়ের উৎপাদনের তুল্যমূল্য হিসেব তুলে ধরে দাবি করেছে ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন। তবে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট নয় চা শিল্প। তাদের বক্তব্য, জুন এবং চলতি জুলাইয়ে মার খেয়েছে উৎপাদন। তার নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখ ফেলছে এই শিল্পকে। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়েছে দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়া, বলছেন শিল্প কর্তারা।
সংগঠনটি জানিয়েছে, এরাজ্যে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রায় ১০.১ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। গত বছর ওই একই সময়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় সাত কোটি কেজি। বৃদ্ধির হার ৪৪ শতাংশেরও বেশি। এর মধ্যে এবার শুধুমাত্র দার্জিলিং চা উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার কেজি। টি বোর্ডের তথ্য সামনে এনে সংগঠনটি দাবি করেছে, সামগ্রিকভাবে রাজ্যে চায়ের উৎপাদন বাড়লেও এবার দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন কমেছে। কারণ, গতবার ওই একই সময়ে দার্জিলিং চা উৎপাদিত হয়েছিল ১৪ লক্ষ ৭০ হাজার কেজি।
সংগঠনের কর্তারা বলছেন, এমনিতেই আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে চায়ের ভালো দাম মিলছে না। তার উপর কম উৎপাদন আরও বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার দক্ষিণবঙ্গে ভালো বর্ষা হলেও উত্তরবঙ্গে এখনও খামতি রয়েছে বৃষ্টির। তার জেরে দিনের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে জুনে বাংলা ও অসমের সামগ্রিক উৎপাদন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মার খেয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাস্তবে উৎপাদন কত হয়েছে, সেই তথ্য অবশ্য এখনও সামনে আসেনি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কর্তারা। জুলাইতেও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন মার খাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।