


তেহরান ও ওয়াশিংটন: যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির পালটা দেয় আইআরজিসিও। স্পষ্টই জানায়, কোনো হামলা হলে আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও বিপদে পড়বে। সেইসঙ্গে আবু ধাবিতে অবস্থিত ওপেন এআইয়ের ৩ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি স্টারগেট ডেটা সেন্টার ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে প্রায় ২৬ স্কোয়ার কিলোমিটারে তৈরি ডেটা সেন্টার আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিশ্বের মধ্যে আধিপত্য বজায় রাখতে এই কেন্দ্রটিকেই পাখির চোখ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০২৫ সালে উদ্বোধন হওয়ার পর বর্তমানে ডেটা সেন্টারটি নির্মাণের কাজ চলছে। জাতীয় নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উন্নতি মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ হতে পারে। মাইক্রোসফ্ট, এনভিডিয়া, ওরাকল, সফ্টব্যাংকের মতো সংস্থা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। সবদিক থেকেই ওই ডেটা সেন্টারটি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গ টেনে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, ওপেন এআইয়ের ডেটা সেন্টারের হামলার হুঁশিয়ারির পরই কি সুর নরম করলেন ট্রাম্প?
এদিকে, দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের হরমুজ বন্ধ করে দিল ইরান। এরমধ্যে ইরানের হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উৎকৃষ্ট মানের ইউরেনিয়াম হাতে পেতেও তৎপর আমেরিকা। বুধবারই ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই তেজষ্ক্রিয় পদার্থ খুঁজে, তা নষ্ট করতে ইরানের সঙ্গে কাজ করবে মার্কিন প্রশাসন। এদিন এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথও। জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে না দিলে ফের ইরানে হামলা চালাবে মার্কিন সেনা।