


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দুর্নীতি রুখতে অনলাইন মিউটেশন ব্যবস্থা চালু করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই মিউটেশনকে ঘিরেই পানিহাটি পুরসভায় দালালরাজ চরমে উঠেছে। প্রত্যেক লাখে কাউকে দিতে হচ্ছে এক শতাংশ, কারও তাবার তা কমে ০.২৫ শতাংশ হয়ে যাচ্ছে। সিংহভাগ ক্ষেত্রে মিউটেশনের ফিজ জমা দেওয়ার পর রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। রসিদ চাইলে ফিজ বেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই দুর্নীতি চক্রে পুরসভার কর্মীদের একাংশের পাশাপাশি শহরের প্রভাবশালীরাও যুক্ত বলে অভিযোগ। প্রতিদিন এই চক্র থেকে আয় হওয়া টাকার নির্দিষ্ট ‘প্রসাদী’ বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যায়। মিউটেশন ফিজ নিয়ে চলা এই দুর্নীতি অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছন শহরবাসী। দুর্নীতির চাকে নতুন চেয়ারম্যান ঢিল ছোঁড়ার চ্যালেঞ্জ নেবেন কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন!
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি শহরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের বসবাস। এক লক্ষাধিক হোল্ডিং রয়েছে। তারমধ্যে মিউটেশন হয়নি এমন ফ্ল্যাট, সাধারণ বাড়ির সংখ্যা কয়েক হাজার। প্রতিদিন প্রচুর সাধারণ মানুষ মিউটেশন করাতে পুরসভায় হাজির হচ্ছেন। অনলাইনে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে অনেকে আসছেন, কেউ আবার এই অনলাইন ব্যবস্থা না জেনেই আসছেন। অফিস চত্বরে মৌমাছির মতো ভিড় করে রয়েছেন দালালরা। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের টোটাল ভ্যালুয়েশনের এক শতাংশ ফিজ লাগবে। কিন্তু কয়েক বছর আগে পুরসভায় স্থির হয়েছিল ০.২৫ শতাংশ ফিজেও মিউটেশন হবে। তবে তাতে কাউন্সিলারদের চিঠি লাগবে। এমন চিঠি আনার পর ওই রেটে অনেকের মিউটেশন হচ্ছে। আবার যাদের এই চিঠি নেই, তাঁদের সঙ্গে দালালচক্র রফা করছে। কিন্তু জমা দেওয়া ফিজের কোনও রিসিভ কপি মিলছে না। দালালচক্রের এই কাজকর্মে প্রতি মাসেই কয়েক লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। এক সময় কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত পুরসভার কর্মীও গিরগিটির মতো রং বদলে এই চক্রে সামিল হয়েছেন। শহরবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের পরিকল্পনা ও পুরসভার কর্মীদের একাংশের মদতে মিউটেশন বিভাগে দালাল রাজ চালানো হচ্ছে। এখান থেকে আয় হওয়া টাকা পদমর্যাদা অনুযায়ী উঁচু থেকে নিচুস্তর পর্যন্ত ধাপে ধাপে বন্টন হচ্ছে। পুরসভা নিজস্ব আয় ক্রমশ তলানিতে ঠেকছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পুরসভার এক কর্মী বলেন, পুরসভার আয় বাড়াতে নেতাদের কোনও পদক্ষেপ দেখা যায় না। পুরসভাকে ব্যবহার করে সকলে নিজের পকেট ভরাতে ব্যাস্ত। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছে পুরসভা এখন আয়ের বড় উৎস। নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, মিউটেশন নিয়ে কিছু অভিযোগ আমার কানেও এসেছে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হবে। কোনও দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করা হবে না।