


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত এক বছরে কলকাতায় অনলাইন প্রতারণায় খোয়া গিয়েছে ২১০ কোটি টাকা। তার মধ্যে ১৪৭ কোটি টাকাই উদ্ধার করতে পারেনি লালবাজার। অর্থাৎ ২০২৫ সালে ডিজিটাল প্রতারণায় খোয়া যাওয়ার অর্থের মাত্র ৩০ শতাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে কলকাতা পুলিশের সাইবার বিভাগ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা নিজেই এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে খোয়া যাওয়া টাকা পুনরুদ্ধারের হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। সেই তুলনায় গত বছর ‘রিকভারি রেট’ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। তা সত্ত্বেও প্রতারণার অর্থের ৭০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে না পারা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন এই অবস্থা? লালবাজারের দাবি, গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হওয়ার মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যেই তা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এই ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে প্রতারিতদের প্রাথমিকভাবে সাইবার সেলে পাঠায় স্থানীয় থানা। দ্রুত পদক্ষেপ করে প্রতারণার অর্থ ‘ব্লক’ করাই মূল কাজ সাইবার সেলের। কিন্তু অভিযোগ, অনেক সময় খোয়া যাওয়ার টাকার পরিমাণ কম হলে অভিযোগ নিতে টালবাহানা করে সাইবার সেল। চাওয়া হয় একাধিক তথ্য। পেমেন্ট অ্যাপ মারফত প্রতারণা হলে উর্দিধারীরা সব লেনদেনের আইডি সহ প্রিন্ট আউট দাবি করেন অভিযোগকারীর কাছে। সেসব জোগাড় করতে না করতেই টাকা সরিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার পরবর্তী ২ ঘণ্টা ‘গোল্ডেন আওয়ার’। তদন্তে নামতে কয়েক মিনিট দেরি হলেই খোয়া যাওয়া টাকা পুনরুদ্ধার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এসব কারণেই খোয়া যাওয়া টাকার প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ধার করা যায়নি বলে মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতা পুলিশের সাইবার বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, তদন্তে এমনও দেখা গিয়েছে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েবের মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যেই তা পুলিশ ও ব্যাংকের নাগালের বাইরে সরিয়ে নিচ্ছে জালিয়াতরা। ফলে সেই টাকা কোনওভাবে ‘ব্লক’ করা যাচ্ছে না। একাধিক সাইবার প্রতারণায় ধৃত অভিযুক্তরা পুলিশি জেরায় জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব ব্যাংক থেকে টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাই করে তারা।
এই অবস্থায় ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় গলদ থাকার জন্যই টাকা পুনরুদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। গরফা থানা এলাকার বাসিন্দা সঞ্চিতা ভৌমিক দু’মাস আগে সাইবার প্রতারণায় ৪০ হাজার টাকা খুইয়েছেন। প্রথমে থানায় যান তিনি। সেখানে ডায়েরি লিখে পাঠানো হয় সাউথ-ওয়েস্ট ডিভিশনের সাইবার সেলে। অভিযোগ জমা নেওয়া থেকে তদন্ত শুরু করতেই ঘণ্টা দু’য়েক পার হয়ে যায়। সঞ্চিতাদেবীর দাবি, এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের তরফে যোগাযোগ করা হয়নি। তদন্তের গতিপ্রকৃতি জানতে সাইবার সেলে ফোন করা হলেও জুটেছে পুলিশের ধমক! তাঁকে বলা হয়েছে, ‘টাকা পাওয়া গেলে আপনাকে জানানো হবে। বারবার ফোন করার দরকার নেই।’