


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একযোগে মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছে এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম বিতরণের কাজ। কিন্তু গোটা প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ থেকে গেল ‘হাতে হাতে’ই। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল ভারতে ইনিউমারেশন ফর্ম ফিল আপ ও জমা দেওয়ার অনলাইন প্রক্রিয়া চালুই করতে পারল না নির্বাচন কমিশন। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে এক সময় অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানো, তথা বর্তমানে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ফলে ভোটার কার্ডে ছাপানো ঠিকানা থেকে কর্মসূত্রে বা অন্য কোনও প্রয়োজনে যাঁরা দূরে রয়েছেন, তাঁদের ধোঁয়াশা ও আতঙ্ক দুই-ই বাড়ল। কিন্তু কেন চালু করা গেল না অনলাইন পরিষেবা? নির্বাচন কমিশনের তরফে এর কোনও সদুত্তর নেই। উলটে তাঁদের দাবি, অনলাইন পরিষেবা তো একটা বিকল্প মাত্র। ফলে এখনই শুরু করতে হবে, তার মানে নেই। কিছুদিনের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে।
বুধবার থেকে ইনিউমারেশন পর্বের অনলাইন পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনই জোরের সঙ্গে নিশ্চিত করতে পারছেন না রাজ্যের সিইও অফিসের আধিকারিকরা। যেহেতু বিরাট একটা তথ্যভাণ্ডার নিয়ে কাজ এবং ১২ রাজ্যে একসঙ্গে শুরু হচ্ছে, তাই বাড়তি সময় লাগছে বলেই মত আধিকারিকদের। তাতে অবশ্য মানুষের উৎকণ্ঠা কমছে না। কেউ কর্মসূত্রে বাইরে, কারও ঠিকানা বদলালেও এপিক আপডেট হয়নি, কারও বাড়িতে তালা... এই সব ক্ষেত্রেই অনলাইন পরিষেবা জরুরি। ফলে, সোমবার সকাল থেকেই ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপের মাধ্যমে বহু মানুষ তাঁদের বিএলওদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে জানতে চান, নিজেদের ভারতের ভোটার হিসেবে ফের প্রমাণ করতে গেলে কী কী প্রয়োজন? সবারই প্রশ্ন ছিল এক—অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়া যাবে না? উত্তরে অধিকাংশ বিএলও জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ করা যাবে। কিন্তু কবে থেকে, এখনও আমরা জানি না।’
অনলাইন পরিষবা চালু না হলেও বাইরে থাকা ব্যক্তির ফর্ম অন্য কেউ পূরণ করে দিতে পারেন। কিন্তু, পরিবারের কেউ ওই ঠিকানায় না থাকলে তা সম্ভব নয়। এমনকি একাধিক নির্বাচনী আধিকারিক এ নিয়ে ফাঁপরে পড়েছেন। কারণ, তাঁরাও কাজের সূত্রে এখন বাড়ি যেতেই পারবেন না।