


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার জাতীয় সড়কগুলিতে ট্রাকের ওভারলোডিং রুখতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিস সুপারকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
জাতীয় সড়কে চলাচল করা পণ্যবাহী গাড়িগুলিতে ওভারলোডিং কোনও নতুন ঘটনা নয়। রাস্তার দশা বেহাল হওয়ার পিছনে এই ওভারলোডিংই সিংহভাগ ক্ষেত্রে দায়ী, যার ফল ভুগতে হয় আম জনতাকে। তাছাড়া বিষয়টি মোটর ভেহিকলস আইনের পরিপন্থী। এমনই দাবি করে ওভারলোডিং রুখতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল একটি সংস্থা। সম্প্রতি বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, পরিবহণ দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারির তরফে গত ২২ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে সমস্ত জেলার কাছে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ চাওয়া হয়েছে।
রাজ্যের এই বক্তব্য শোনার পরই আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ‘এটা অস্বীকার করা যাবে না যে ওভারলোডিংয়ের কারণেই জাতীয় সড়কগুলি দিনের পর দিন বেহাল হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের তরফে নজরদারির অভাবে একদল অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মিত এই কাজ করে যাচ্ছে।’ এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে জানায়, পরিবহণ দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারির তরফে গত ২২ এপ্রিল সমস্ত জেলার কাছে বিষয়টি নিয়ে যে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে, তা হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে। আদালতের আরও নির্দেশ, জাতীয় সড়কগুলিতে ওভারলোডিং রুখতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুলিস কমিশনার/সুপার এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। চার সপ্তাহ পর ফের মামলার শুনানি। ওই সময়ের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে পরিবহণ দপ্তরকে।
এদিকে, পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্যে চালু হবে ই-ডিটেকশন পদ্ধতি। ওভারলোডিং এবং কোনও গাড়ির পারমিট ফেল হওয়া থেকে শুরু করে সিএফ যথা সময়ে না হয়ে থাকলে নতুন প্রযুক্তিতে তা ধরা পড়ে যাবে। পাশাপাশি বিমা, গাড়ির ধোঁয়া পরীক্ষা, কর বকেয়া কিংবা জরিমানার বিষয়গুলিও সহজেই নজরে আসবে। ইতিমধ্যে ছত্তিশগড়, বিহার, ওড়িশার মতো রাজ্যে এই প্রযুক্তি চালু হয়ে গিয়েছে বলে খবর।