


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: এক মাসেই টাকা ডবল! তরুণীর মুখ থেকে কথাটা শুনে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না নিউটাউনের যুবক। তবে ঝুঁকি নিতে ক্ষতি কী! ডবল না হলেও কাছাকাছি তো যাবে! অগত্যা ফোনে পরিচিত তরুণীর কথায় খোলামকুচির মতো ৩৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বসেন তিনি। শেয়ার ট্রেডিং অ্যাপে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল টাকার অঙ্ক। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছিলেন ওই যুবক। কিন্তু এক মাস পর টের পেলেন, টাকা ডবল হওয়া তো দূরের কথা, বিনিয়োগ করা সমস্ত অর্থই লোপাট! প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন তিনি। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলতে এবার ‘একমাসে টাকা ডবলে’র টোপ দিচ্ছে প্রতারকরা। সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকেই। তাই এই ধরনের ফোন পেলে সতর্ক হতে হবে। না হলে মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যেতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড বা বিনিয়োগের নামে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন প্রবীণ থেকে নবীন, সব বয়সের লোকজনই। অল্প সময়ের মধ্যে বেশি রিটার্নের লোভই তাঁদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। জানা গিয়েছে, প্রতারকরা প্রথমে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সাধারণ কিছু কথাবার্তা বলার জন্য ফোন করেন। কথাবার্তার মধ্যে তারা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে কি না। বিনিয়োগকারী সামান্য আগ্রহ প্রকাশ করলেই প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে তাঁকে যুক্ত করে নেয়। তারপর শুরু হয় ভুয়ো ‘প্রফিট প্ল্যাটফর্ম’ দেখানো। বিনিয়োগের নানা ধরনের স্কিম বলে তারা। কোন স্কিমে বিনিয়োগ করলে কত দ্রুত বাড়তি রিটার্ন মিলবে, তার ফিরিস্তি তুলে ধরে। অনেকেই এসব বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। প্রতারকরা ভুয়ো শেয়ার ট্রেডিংয়ের অ্যাপও বানায়। সেখানে ভুয়ো ব্যালেন্স দেখার জন্য একটি নকল ওয়ালেট অ্যাপ বানানো হয়। কিছুদিনের মধ্যে বিনিয়োগকারী দেখতে পান, তাঁর অর্থ বাড়তে শুরু করেছে। তাঁদের বিশ্বাস আরও পোক্ত হয়। তখন আরও বেশি বিনিয়োগ ঢালতে শুরু করেন। এরপর টাকা তুলতে গেলেই সামনে আসে আসল সত্য! কেউই টাকা তুলতে পারেন না। প্রতারকরা শেষ পর্যন্ত আরও টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। তারা বিনিয়োগকারীকে বলে, রিটার্ন সহ টাকা দিতে গেলে ট্যাক্স, কমিশন, সার্ভিস চার্জ ইত্যাদি বাবদ কিছু খরচ রয়েছে। সেই টাকা দিতে বলা হয়। সব শেষে প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রুপ থেকে বিনিয়োগকারীকেই ‘রিমুভ’ করে দেয়। তারপর মোবাইল বন্ধ। প্রতারকরা শতাংশ হিসেবেই রিটার্নের টোপ দেয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারা টাকা একেবারে ডবল বা দ্বিগুণ করে দেওয়ার টোপ দিচ্ছে। তাই যে কোনো ধরনের বিনিয়োগের আগে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে পুলিশ।