


চেষ্টা করবি— যথাকালে সন্ধ্যা করবার। সময়ের মর্য্যাদা রাখতে চেষ্টা করবি। সন্ধ্যার সময় অফিসে থাকলে সন্ধ্যা মন্ত্র আবৃত্তি করলেও সন্ধ্যা করা হবে। গুরুগীতা, বিষ্ণুসহস্রনাম পাঠ করবি। যা দেখবি সব গুরু গুরু বলে প্রণাম অভ্যাস করবি। দীক্ষার পর শ্রী গুরুদেব দেহ নিয়ে নেন, তাকে আর আমি বলবি না। আমি স্থানে “এ দাস”, আমার স্থানে “এ দাসের” ব্যবহার করবি। দেহে ‘আমি’ তো নেই।
মানুষের আহারের দোষেই মানুষ সর্ব্বনাশের দিকে ছুটে চলেছে। পেঁয়াজ ডিম মাছ মাংস হাঁস মুর্গী যারা খায় তাদের দেহ রাজস, তামস পরমাণুতে ভরে যায়, কোন ভাল কাজ করতে পারে না, উত্তেজনায় দেহ ক্ষয় হয়ে যায়। এ স্বপ্নের দেশে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, অভাব-স্বাচ্ছল্য প্রভৃতির কোন মূল্য নাই, এই আছে এই নাই। এ সব উপেক্ষা করে যে শ্রীভগবানকে ধরে থাকতে পারে সেই-ই পুরুষ সিংহ। উঠতে বসতে ঠাকুরকে ডাক্বি।
এ জগতে মানুষ আসে শ্রীভগবানকে লাভ করবার জন্য। মন্ত্রের সাধন কি শরীর পতন—মাকে কেবল বল্ আমি তোর শরণাগত—শরণাগত শরণাগত, তবাস্মি-তবাস্মি-তবাস্মি।
যখন পাইবি কষ্ট বুঝিবি তখন/ হইতেছে তোর সব পাপকর্ম্ম ক্ষয়।
পুণ্যকর্ম্মকালে সুখ দেয় দরশন/ সুখ দুঃখ দুইটী মিথ্যা কিছু কিছু নয়।।
চিত্তকে স্থির রাখবার জন্য নিত্য শ্রীশ্রীগুরুগীতা, শ্রীশ্রীবিষ্ণুসহস্রনাম পড়বি। ঐহিক পারলৌকিক যা প্রার্থনা করবি তা নিশ্চয়ই পাবি।
শরীর সুস্থ রাখবার উপায়— ভোরে পবিত্র জল আট ঢোক পান, নাক দিয়ে ডানহাতের দু অঞ্জলি জল পান। কঠিন নয় নলওয়ালা ছোট ঘটি কিনলে কাজ চলবে। আধ ভরি হরিতকীর গুঁড়ো ভাতের সঙ্গে খেলে সব রোগ নাশ হবে। ক্রমে বাড়িয়ে ১ ভরি করতে হবে। এর দ্বারা সব রোগ দূর হবেই। মুগ একদিন ভিজিয়ে রাখলে কলাবে, সেই কলানো মুগ নুন আদা দিয়ে নিত্য খেলে, একমুঠো ভাজা বাদাম ভোজনে, ৫/৬টা খেজুর গুলে সেই জল খেলে শরীর পুষ্ট হবে। শুধু ইচ্ছা জাগা ভগবৎলাভের— ব্যস্, তিনি সব ঠিক করে নিয়ে বসে আছেন তোমার জন্য। শুধু জাগুক্ বাসনা কিছু চাই না তোমায় চাই। দেখবে সব সাজানো আছে।
বাবারে, সব বাঁধা আছে জন্ম-জন্মান্তরের কর্ম্মবন্ধনে বন্দী জীবদল অবশভাবে ভেসে চলেছে, কোন স্বাধীনতা নাই। করমের বশে চলিয়াছে ভেসে—তৃণসম জীবদল। ডাক্, ডেকে ডেকে কর্ম্মক্ষয় করে চল্। আমি একটা কথা জানি “নাম”, অপূর্ব্ব এই নামের শক্তি! নাম কর্তে কর্তে মানুষ আর মানুষ থাকে না সেই নামই হয়ে যায়! বসে বসে নাম কর, চলতে চলতে নাম কর, হেলায় নাম কর, উপেক্ষায় নাম কর, মনস্থির হয় না—নাম কর, ইন্দ্রিয় জয় হয় না— নাম কর, অভাব ঘুচে না— নাম কর, দেহ কষ্ট দেয়— নাম কর, আত্মীয়-স্বজন মনের মতন নয়— নাম কর, নাম করতে ঠিক পারি না— নাম কর, সুবিধা যেখানে নাম কর, মহা অসুবিধায় নাম কর, লোক ভালবাসে নাম কর, লোক উপেক্ষা করে নাম কর। কেবল নাম, শুধু নাম! নামে শান্তি— নামে তৃপ্তি— নামেই সব হবে।
ত্রিদণ্ডী স্বামী মাধব রামানুজ সংকলিত ‘শ্রীওঙ্কারসহস্রবাণী’ (২য় খণ্ড) থেকে