


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ছেড়ে যাওয়া সদস্যদের পুনরায় ফেরানোর কর্মসূচি চালু করলেও সেভাবে সাড়া পাচ্ছে না কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (ইপিএফও)। ফলে কার্যত মাথায় হাত শ্রমমন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধকারিকদের। ইপিএফ পরিষেবায় রি-জয়েনিংয়ের ক্ষেত্রে আরও অভিনব কোনও ‘অফার’ কর্মী এবং কর্তৃপক্ষ—উভয় পক্ষকেই দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ব্যাপারে লাগাতার প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইপিএফওর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। শুক্রবার গুজরাতে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জানান, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশের ১০০ কোটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মোদি সরকার। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যেসব সদস্য ইপিএফও ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের পুনরায় যোগদানের উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রের মোদি সরকার চালু করেছে ‘এমপ্লয়ি এনরোলমেন্ট স্কিম’ (ইইএস), ২০২৫। গত ১ নভেম্বর থেকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ, ছ’মাসের জন্য এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। কিন্তু শ্রমমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, কর্মসূচি চালুর পর প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও সেভাবে সাড়া মেলেনি। আর তাই বিষয়টি নিয়ে তেড়েফুঁড়ে নামতে চাইছে কেন্দ্র। এই কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ ‘অফার’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। যেমন প্রায় আট বছর ইপিএফ পরিষেবার আওতার বাইরে থাকার পর রি-জয়েনিংয়ের ক্ষেত্রে বকেয়া এমপ্লয়ি শেয়ার আর কন্ট্রিবিউট করতে হবে না। তবে যদি তা কেটে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্য সেই টাকা আর ফেরৎ পাওয়া যাবে না। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃপক্ষকে মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনওরকম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি এর ফলে রি-জয়েনি সদস্যরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার আওতাভুক্ত হয়ে যাবেন।
বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। কর্মসংস্থানের ইস্যু ওই সমস্ত রাজ্যে অন্যতম নির্বাচনী প্রচার এজেন্ডা হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইপিএফওর সদস্য সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান ইস্যুতে বিরোধীদের জবাব দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। অন্তত এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে সারা দেশে কর্মী পিএফের (ইপিএফ) সদস্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি। যদিও প্রতি মাসের ইপিএফও পে-রোল ডেটায় নতুন গ্রাহকের অন্তর্ভুক্তি বাড়ে-কমে। তাই সার্বিক সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।