


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রায় এক বছর আগে রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে অনলাইনে সম্পত্তি কর সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখনও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩৮টি পঞ্চায়েত এই ব্যবস্থা শুরুই করে উঠতে পারেনি বলে খবর। যার ফলে কোথাও কর সংগ্রহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, কোথাও আবার সাধারণ মানুষ ট্যাক্স জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। কোনও কোনও পঞ্চায়েত অফলাইনে কর জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে ঠিকই, কিন্তু বাসিন্দারা সেভাবে টাকা জমা দিচ্ছেন না। গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ওই ৩৮টি পঞ্চায়েতের থেকে সমস্যা, অভাব-অভিযোগ ইত্যাদি জানতে চেয়েছে।
পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়াতে অনলাইনে ট্যাক্স জমা দেওয়ার পরিষেবা চালু করেছে পঞ্চায়েত দপ্তর। তারা আশা করেছিল, এই প্রক্রিয়ার সুবিধা নিয়ে মানুষ নিয়মিত কর জমা দেবেন এবং পঞ্চায়েতের আয় বাড়বে। কিন্তু এক শ্রেণির পঞ্চায়েত প্রশাসন এ ব্যাপারে এখনও সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বাসন্তী, ক্যানিং ১, ২ ভাঙড় ১, ২, জয়নগর ২, সোনারপুর, ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা, মথুরাপুর ১, ২, বিষ্ণুপুর ১, ২, কুলপি, বারুইপুর, মন্দিরবাজার সহ বেশ কিছু ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত এক্ষেত্রে বাকিদের থেকে পিছিয়ে রয়েছে। জেলায় মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ৩১০। এর সিংহভাগ পঞ্চায়েতই অনলাইনে কর নেওয়া শুরু করে দিলেও বাকিরা কেন পারল না, সেটাই ভাবাচ্ছে জেলার আধিকারিকদের।
ওই গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কী বক্তব্য? মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের উস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জ্যোৎস্না হাজরা বলেন, ‘অনলাইন ট্যাক্স নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছিল। সেটা এখন মিটেছে। আশা করছি, জানুয়ারি মাস থেকে এই পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে।’ সোনারপুরে খেয়াদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোরাচাঁদ নস্কর বলেন, ‘এপ্রিল থেকে এই পরিষেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সব বাসিন্দাদের তথ্য আপলোড করতে সময় লেগে গিয়েছে।’ ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের মাতলা এক নম্বরের পঞ্চায়েত প্রধান হরেন ঘোড়াইয়ের বক্তব্য, ‘কিছু সমস্যা এখনও আছে, যা মিটতে সময় লাগবে। তবে পরিকাঠামো অনেকটাই প্রস্তুত রয়েছে।’