


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হবে। ফলে কোথাও কোথাও বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, এখনকার পরিস্থিতি বজ্রপাতের অনুকূল। তাই বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এখন মাঠে চাষের কাজ চলছে। তাই আরও বেশি করে সাবধান থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসেও মাঠে থাকা কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিকর্তা জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলে এখন প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প আছে। মাঝে মাঝে চড়া রোদ উঠছে। তখন গরমে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কোথাও কোথাও আচমকা খুব বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। যেমন, সোমবার বিকেল উত্তর কলকাতা ও উত্তর শহরতলির কিছু জায়গায় আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৃষ্টি চলে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দমদমেই মাত্র ১.২ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আলিপুরেও ওই সময় কোনও বৃষ্টিপাত হয়নি। বীরভূমের সিউড়িতে ৪০.৮ মিমি ও পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে ২১.৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের আর কোথাও বেশি বৃষ্টি এই সময়ের মধ্যে হয়নি। জলীয় বাষ্প বেশি থাকার জন্য ভ্যাপসা, অস্বস্তিকর গরমে জেরবার হতে হচ্ছে। মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের থেকে ১.৮ ডিগ্রি বেশি ছিল। কিন্তু সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৩ শতাংশ। এই কারণে কোথাও কোথাও মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেও গরমে হাঁসফাঁস করতে হয়েছে মানুষকে।
কাল, বুধবার পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হতে চলেছে, সেটি শক্তি বৃদ্ধি করবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। যদিও দক্ষিণবঙ্গে এর প্রভাব বিশেষ পড়বে না। দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েকদিন হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন জেলাগুলিতে আজ, বুধবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তারপর সেখানে বৃষ্টি কমবে। মৌসুমি অক্ষরেখাটি হিমালয়ের পাদদেশ দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প সেখানে প্রবেশ করছে। তাই গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।