


তেহরান: যুদ্ধের ৩০ দিন অতিক্রান্ত। ইজরায়েল-আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে জারি হামলা ও পালটা হামলা। রবিবার ভোরে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরানের শাফ্ট শহর। ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বহুতল। মৃত্যু হল দু’জনের। জখম পাঁচ। ওসমাভানদান নামে একটি গ্রামে মার্কিন-ইজরায়েলি হানায় ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। প্রত্যাঘাত করেছে ইরানি সেনাও। এদিন বাহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যালুমিনিয়াম প্লান্টে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর জেরে বাহরিনে দু’জন ও আরব আমিরশাহিতে মোট ৬ জন জখম হয়েছেন। দক্ষিণ ইজরায়েলের একটি রাসায়নিক প্লান্টেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। বিষাক্ত গ্যাস লিকের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের গৃহবন্দি থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জর্ডনের একটি এয়ারবেসে হামলার দাবি করেছে ইরান।
এদিন ওয়াশিংটনকে কার্যত হুমকি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বেঁধে দিয়েছে সময়সীমাও। তাদের সাফ বার্তা, আমেরিকা-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পালটা জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকা যদি পশ্চিম এশিয়ায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাম্পাসগুলি সুরক্ষিত রাখতে চায়, তাহলে প্রকাশ্যে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানাতে হবে। ডেডলাইন সোমবার বেলা ১২টা। এখানেই শেষ নয়। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্যাম্পাস থেকে সকলকে এক কিলোমিটার দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছে ইরানি সেনা।
এর আগে শনিবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় মার্কিন এফ ১৬ বিমানকে গুলি করে নামানোর দাবি করেছে ইরান। যদিও এসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি ক্রমে জটিল হচ্ছে। এরইমধ্যে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির পদক্ষেপ চিন্তা বাড়িয়েছে। শনিবারই ইজরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। ফলে যুদ্ধ এবার লোহিত সাগর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। বর্তমানে জাহাজ চলাচলের জন্য লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালীর পর এবার সেখানেও বাধার সম্মুখীন হতে পারে জ্বালানি বোঝাই জাহাজ।
এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। এদিন ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারী সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও পাক বিদেশমন্ত্রীদের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।