


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গর্ভস্থ সন্তানের যখন ৭ মাস বয়স, তখন একদিন ২৬ বছরের ভাবী মা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান। তারপর থেকেই বারবার দেখা দিতে লাগল একই সমস্যা। ইসিজি করাতেই ধরা পড়ল মায়ের হার্ট ব্লক। যে কোনওসময় বড় বিপদ হতে পারে। এইসময় সন্তানের জন্ম দেওয়া তো পরের কথা, প্রসূতিকে বাঁচানোই কঠিন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বালুরঘাটের মৌমিতা বর্মন নামে ওই প্রসূতিকে পার্ক সার্কাসের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা অস্থায়ী পেসমেকার বসিয়ে অপারেশন করালেন। প্রসব চলাকালীন একবার নাড়ির গতি কমে পঞ্চাশেরও নীচে নেমে যায়। রীতিমতো পেসমেকার টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে নিয়ে প্রসব করাতে নেমেছিলেন তাঁরা। ইতিবাচক ফলও মিলল। ২ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের সুস্থ সন্তানের জন্ম দিলেন মৌমিতা। ন্যাশনালে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান ডাঃ পি কে বিশ্বাস বলেন, এমন ঘটনা আমাদের চিকিৎসাক্ষেত্রে অতিবিরল। মা ও সন্তান দু’জনের অবস্থাই ভালো।
সূত্রের খবর, প্রথমে বালুরঘাট হাসপাতাল থেকে ওই প্রসূতিকে পাঠানো হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজে। সেখান থেকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হার্টের অসুখের জন্য যে কোনও সময় হার্ট ব্লক হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল প্রসূতির। হৃদরোগ বিভাগের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অস্থায়ী পেসমেকার বসানোর। ঠিক হয়, সেভাবে প্রসব করে তারপর স্থায়ীভাবে পেসমেকার বসালে দু’জনেই নিরাপদ থাকবে। সেই মতো প্রথমেই অস্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়। তার দিনদুয়েকের মধ্যে মৌমিতার প্রসব করানো হয়। তারপর বসানো হয় স্থায়ী পেসমেকার। এখানকার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের দাবি, বেসরকারি হাসপাতালে এভাবে প্রসব হলে খরচ পড়ত কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। এখানে হয়েছে সম্পূর্ণ নিখরচায়।