


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে প্রায় ২২ হাজার প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালুর অনুমোদন পেয়েও পর্যাপ্ত পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে অনেকগুলিই। শিক্ষক এবং হেড টিচারদের বক্তব্য, আশপাশের বহু হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু থাকায় সেদিকেই ছুটছেন অভিভাবকরা। তাই সেখানে পঞ্চম শ্রেণি বন্ধ না-হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তবে বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালুর পরেই হাইস্কুল থেকে তা বন্ধ করা হবে। ফলে, ২০২৯ সালের আগে এই সংক্রান্ত সার্বিক অর্ডার প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। কারণ, সেই লক্ষ্যমাত্রা ধরেই এগোতে হচ্ছে শিক্ষাদপ্তরকে।
শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী স্কুলের এক কিমির মধ্যে বসবাসকারী কোনও পড়ুয়া সেখানে ভরতি হতে চাইলে, তারা তাকে নিতে বাধ্য। তবে, আসন থাকতে হবে। সেই কারণে হাইস্কুলগুলিও পড়ুয়াদের পঞ্চম শ্রেণিতে ভরতি হওয়া থেকে বিরত করতে পারে না। তবে, প্রাথমিক স্কুলগুলি এক্ষেত্রে অন্য অস্ত্র প্রয়োগ করছে। বাংলার শিক্ষা পোর্টালে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চম শ্রেণি রয়েছে এমন প্রাথমিক স্কুলগুলি চতুর্থ শ্রেণিতে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিচ্ছে না। এই কৌশলে পড়ুয়াদের ধরে রাখতে পারছে তারা।
যদিও শিক্ষকরা মনে করছেন, টিসি না দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আটকে রাখা কোনও নৈতিক সমাধান নয়। অবশ্য শিক্ষাদপ্তরের যুক্তি, পঞ্চম শ্রেণি চালু হওয়া স্কুলগুলি একই জায়গায় রয়েছে, এমন নয়। তাই কোন অঞ্চলের কোন প্রাথমিক স্কুলের জন্য কোন হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণি বন্ধ করা হবে, তা ঠিক করা দুষ্কর। সঠিকভাবে তা না করা গেলে অনেক পড়ুয়াই পঞ্চম শ্রেণিতে ভরতি হতে পারবে না, নয়তো একটি বা দু’টি প্রাথমিক স্কুলের উপরে বাড়তি চাপ পড়বে। সেই কারণেই সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি চালু না করে হাইস্কুলে তা বন্ধ করতে চাইছে না দপ্তর।