


তেহরান: আবারও ইজরায়েলের বন্দর শহর হাইফা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরান। যুদ্ধ যত এগচ্ছে ততই যুযুধান দুই দেশের মূল লক্ষ্যই হয়ে দাঁড়িয়েছে একে অপরের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তৈল শোধনাগারগুলি। সোমবার হাইফা শহরের একটি তৈল শোধনাগার থেকে কালো ধোঁয়া বেরনোর ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে বিরাট একটি রিফাইনারি ট্যাঙ্কে জ্বলন্ত আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। তবে দ্রুত সেই আগুন নিভিয়ে ফেলেন ইজরায়েলের দমকল বিভাগের কর্মীরা। সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নাকি ক্ষেপণাস্ত্রের ভাঙা টুকরো থেকে এই আগুন লেগেছে, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইজরায়েলে মাত্র দু’টি তৈল শোধনাগার সক্রিয় রয়েছে। এগুলির একটিও ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জ্বালানি সংকট ঘনিয়ে আসবে তেল আভিভে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করল তেহরান। সম্প্রতি ইরাকের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কাউন্সিলের সঙ্গে বাগদাদে বৈঠক করেন সেদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। সেই বৈঠকে ইজরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসনের নিন্দা করা হয়। পাশাপাশি ইরানকে সমর্থন করার কথাও জানায় বাগদাদ। এই সমর্থনের জন্য ইরাককে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন মোজতবা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল-আমেরিকার বিমান হানায় সাড়ে মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। এর কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেয় ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল। তবে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর আর তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এরপরেই মোজতবাকে ঘিরে নানা জল্পনা মাথাচাড়া দেয়। কেউ বলেন, তিনি অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসা চলছে রাশিয়ায়। কারও আবার দাবি, বিমান হামলায় জখম মোজতবার চিকিৎসা চলছে স্বদেশেই। তবে সবচেয়ে বড়ো বোমাটি ফাটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘মোজতবা হয়তো আর বেঁচে নেই।’ এই অবস্থায় মোজতবার চিঠি প্রকাশ করে তাঁর বেঁচে থাকার বার্তাই দেওয়া হল বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে ফাটল দেখা দিয়েছে আগেই। সেই ফাটল আরও চওড়া হয়েছে এদিন। আমেরিকার সামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাপশথ নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেছে স্পেন। এর আগে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইউরোপের এই দেশের সরকার। আর এদিন স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রোবেলস মাদ্রিদে বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের জন্য আমেরিকাকে আমাদের দেশের যুদ্ধঘাঁটি এবং আকাশ পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পেনের সংবাদপত্র এল পাইস জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে না। তবে স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কিউয়েরপো জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরোধী বার্তা দিতেই সরকারের এই বৃহত্তর সিদ্ধান্ত। হাইফায় চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি এএফপি