


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুবভারতী বিশৃঙ্খলায় মোট ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ টিকিট কেটে প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজত শেষে মেসি ইভেন্টের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে ফের আদালতে পেশ করা হলে এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন সরকারি আইনজীবী। রবিবার বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয় অভিযুক্তকে। তাঁর পক্ষের আইনজীবী জামিনের আর্জি জানান এজলাসে। কিন্তু, দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারক অভিযুক্তের জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন। শতদ্রুকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বিশ্বের সেরা ফুটবলার লায়োনেল মেসির ভারত আগমন। দেশজুড়ে মেগা ইভেন্টের শুরুটা ছিল ফুটবল মক্কা—কলকাতায়। সেখানেই বিপত্তি। বিশৃঙ্খলায় বিরক্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন আর্জেনটাইন মহাতারকা। হাজার হাজার মেসিভক্তের কষ্টার্জিত টাকায় কেনা টিকিট কার্যত জলে যায়। ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ছেড়ে বেরোনোর সময়ই দর্শকদের ‘স্ক্যাম..., স্ক্যাম..’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। ইভেন্টে পুলিশি বিধি না-মানা ও বিশৃঙ্খলাসৃষ্টির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রুকে। সেই মামলাতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা করে। যুবভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করে বিধাননগর দক্ষিণ থানা। ১৪ ডিসেম্বর পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছিল বিধাননগর আদালত। এজলাসের বাইরে শতদ্রুর আইনজীবী গোটা ঘটনার জন্য দায়ী করেন দর্শককেই। তাঁর কথায়, মেসিকে দর্শকরা দেখতে পাননি বলে আক্রোশের বশে সব ভাঙচুর করবেন কেন?
রবিবার পুলিশ হেপাজত শেষে ফের এজলাসে উদ্যোক্তাকে পেশ করা হয়। সরকারি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের সওয়াল, ‘এই তদন্ত একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ টিকিট কেটেছিলেন। মোট ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য, যিনি মেসিকে এনে এত বড় অনুষ্ঠান করতে পারেন, তাঁর প্রভাব কতটা সেটা বলার প্রয়োজন নেই। আয়োজক আদালতে জানান, যুবভারতীতে খাবার ও জলের ব্যবস্থা রাখার জন্য ১২ ডিসেম্বর চুক্তি হয়েছে। এদিকে খাবারের চুক্তি নভেম্বর মাসেই হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ সরকারি দপ্তরের সঙ্গে চুক্তির আগেই খাবার-পানীয় মাঠে ঢোকানোর চুক্তি হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, এই চুক্তির তারিখ থেকেই শতদ্রুর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হচ্ছে। পালটা শতদ্রু দত্তের আইনজীবী সৌমজিৎ রাহার দাবি, এটা পেশাদার সংস্থার অনুষ্ঠান। প্রশাসনের সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করা হয়েছিল। ৭ নভেম্বর বিধাননগর পুলিশ ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দিয়েছিল বলেও আদালতে জানান তিনি। আয়োজক সংস্থার দিক থেকে কোনও নিয়মভঙ্গ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।