


৪ ডিসেম্বর, ঢাকা: হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নেমে এসেছে মৌলবাদীদের অত্যাচার। ভাঙা হয়েছে বসতবাড়ি। রেহাই পায়নি মন্দির। প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছাড়তে হয়েছে বহু হিন্দুকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে জামাতে ইসলামি ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে। এর মধ্যে জামাতে ইসলামির প্রার্থী তালিকা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ এবার এক হিন্দুকে প্রার্থী করেছে কট্টরপন্থী এই দলটি। ঘটনাচক্রে এই কেন্দ্র থেকে একসময় জাতীয় সংসদে পা রেখেছিলেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমতে কমতে এখন মোটে ৮ শতাংশেরও নীচে এসে ঠেকেছে। তার মধ্যে খুলনা জেলায় হিন্দুদের হার তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। ২০ শতাংশের মতো। জাতীয় সংসদের খুলনা-১ আসনে এবার এক হিন্দুকে প্রার্থী করেছে জামাত। নাম কৃষ্ণ নন্দী। পেশায় ব্যবসায়ী এই ব্যক্তি বর্তমানে জামায়াতের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি। চমক এখানেই শেষ নয়। এর আগে আমির শেখ আবু ইউসুফ হঠাৎ তাঁকে সরিয়ে কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করা হয়।
জামাতের এই ‘ডিগবাজি’কে ঘিরে স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তাদের এই সিদ্ধান্তের পিছনে আছে ভোটের অঙ্ক। তথ্য বলছে, হিন্দু প্রভাবিত এই আসনে অধিকাংশ সময় সংখ্যালঘু প্রার্থীরাই জিতে এসেছেন। ১৯৯৬ সালে এখান থেকে জয়ী হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিগত সংসদীয় ভোটে এই আসনটি হাসিনার দল আওয়ামি লিগের দখলে ছিল।
খুলনায় কি এবার হাওয়া বদল হবে? হিন্দু প্রার্থী দিলেও কি সংখ্যালঘুদের মন জিততে পারবে ‘রাজাকার’ জামাত? সময় উত্তর দেবে।