


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, পাকা বাড়ি, পরিস্রুত পানীয় জল, প্রবীণদের পাশে থাকা। স্রেফ ইস্তাহার নয়, অঙ্গীকার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে পা রাখার আগে বাংলার আপামর মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, ‘আমরাই ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকি। অব্যাহত থাকবে উন্নয়নের ধারা। তাই বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলকে সমর্থন করুন। এটা বাংলাকে বাঁচানোর, বাংলাকে রক্ষার লড়াই।’
বিধানসভা নির্বাচনের জন্য গত মঙ্গলবার দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। ঠিক তার তিনদিনের মাথায়, শুক্রবার কালীঘাট থেকে নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশ করেন মমতা। তার মূল মন্ত্র, ‘বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’। গত ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে মমতা যেভাবে বাংলার সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন করে চলেছেন, সেটাই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে আসার পর সুদূর প্রসারিত করতে চান তিনি। এই প্রত্যয়েই ইস্তাহারে তৃণমূল লিখেছে, প্রতি বছর প্রতিটি ব্লক ও টাউনে দুয়ারে চিকিৎসা কার্যকর করে সাধারণ মানুষকে বাড়ির দোরগোড়ায় চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, দুয়ারে সরকার কর্মসূচি মমতার জনমুখী কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। এর মাধ্যমেই সরকার তার সব প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে আম জনতার বাড়ির কাছে। এই সূত্রেই ভোটে জিতে আসার পর চিকিৎসা পরিষেবাকে মানুষের দরজায় নিয়ে যেতে চায় তৃণমূল। এছাড়াও, ইস্তাহারে বাংলার সমস্ত সরকারি স্কুলের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছে তৃণমূল। মমতা জানিয়েছেন, কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন হবে। সেইসঙ্গে হবে শিক্ষক নিয়োগ। ই-লার্নিংয়ের প্রসার।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের পাশে থাকা, যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে যুব সমাজকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা, কৃষক পরিবারগুলিকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদানের প্রতিজ্ঞা ইস্তাহারে করেছে তৃণমূল। প্রশাসনিক সুবিধায় রাজ্যে নতুন সাতটি জেলা তৈরির অঙ্গীকারও করেছে তৃণমূল। ইস্তাহারে প্রকাশ, কান্দি, বহরমপুর, বিষ্ণুপুর, সুন্দরবন, রানাঘাট, ইছামতী ও বসিরহাট নামে জেলা গঠন করা হবে। পাশাপাশি ‘মিশন মহানগর’ কর্মসূচিতে ২৫টি শহরকে মডেল শহর হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এই তালিকায় আছে হাওড়া, ডায়মন্ডহারবার, বারাসত, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং।