


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবা আইন কলেজের গণধর্ষণ মামলায় পিছিয়ে গেল চার্জ গঠনের শুনানি। বুধবার আলিপুরের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে শুনানি ছিল। চার অভিযুক্তের মধ্যে জেল হেপাজতে থাকা তিনজনকে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির করা হয়। হাজির ছিল জামিনে থাকা অভিযুক্তও। এই মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ‘সরকার পক্ষ চায়, এই মামলায় দ্রুত চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে।’
এই মামলা ঘিরে দিনভর আদালত চত্বর ছিল সরগরম। মামলাটি আদালতে উঠলে এক অভিযুক্ত বলে, তার হয়ে একজন সিনিয়র আইনজীবী সওয়ালে অংশ নেবেন। আর এক অভিযুক্ত দাবি করে, সে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ফলে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হতে পারে না। তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। আদালত সূত্রের খবর, কিছুটা শুনানি হয়। আগামী ১৪ জানুয়ারি চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করে আদালত। কিছুদিন আগে আলিপুর আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় কলকাতা পুলিশ। মামলাটি বিচারের জন্য যায় আলিপুর জেলা আদালতে। সেখানে দুই অভিযুক্তের জামিনের আর্জি জানিয়েও তা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেন তাঁদের কৌঁসুলিরা। শেষ পর্যন্ত মামলাটি জেলা জজের এজলাস থেকে বিচারের জন্য যায় প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে। সেখানেই এদিন চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।
অন্যদিকে, হরিদেবপুর গণধর্ষণ‑কাণ্ডে বুধবার আবারও এক অভিযুক্ত আলিপুর জেলা আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে সেই আর্জি প্রত্যাহার করে নেয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি শিবনাথ অধিকারী বলেন, ‘এর আগেও এই মামলায় এক অভিযুক্ত জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানির দিন তা প্রত্যাহার করে নেয়। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত পক্ষ যদি আর্জি জানিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন তুলে নেয়, তাহলে তাঁদের তো করণীয় কিছু নেই।’ তবে এদিন সরকারি আইনজীবী স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা আদালতে অভিযুক্তরা জামিনের আবেদন জানালেই সরকার পক্ষ তার জোরালো আপত্তি জানাবে।