


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে লাগাতার বাঙালি হেনস্তার নেপথ্যে একটি চিঠি! তাও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! ২ মে পাঠানো চিঠি। আর তাতেই রাজ্যগুলিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছিল, অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের (মায়ানমারের নাগরিক) চিহ্নিত করতে হবে। সন্দেহভাজনদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা হবে। যদি তাঁরা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে গিয়ে থাকে, তাহলে সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনুপ্রবেশকারী বলে নিশ্চিত হলে ‘ডিপোর্ট’। সরাসরি না বললেও, কেন্দ্রের এই চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা প্রচার করা যাবে না। ওয়াকিবহাল মহলের মত, যেহেতু এর সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্ক এবং পড়শি দেশগুলির স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে, তাই এই নিষেধাজ্ঞা। সেইসঙ্গে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন, চিহ্নিতদের বায়োমেট্রিক নেওয়ার মতো নির্দেশও জারি করেছে কেন্দ্র। আর এই চিঠিকে হাতিয়ার করেই রীতিমতো ‘বাঙালি খেদাও’ অভিযানে নেমে পড়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। পুলিসি অত্যাচারের একের পর এক নালিশ এসেছে ওড়িশা, অসম, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা থেকে। অথচ, আট পাতার চিঠিতে একবারের জন্যও বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়নি। সম্পূর্ণ আইন মোতাবেক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন হল, কীসের ইন্ধনে বাঙালি হেনস্তা কর্মসূচি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির?
নজর করার মতো বিষয় হল, চিঠি মে মাসের। অর্থাৎ তখনই রাজ্যগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা চিহ্নিতকরণ। আর তারপরই ঘোষণা হয়েছে ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিশন। প্রথমে বিহার। তারপর দামামা শুরু হয়েছে গোটা দেশের জন্য। আগামী মাসেই অবশ্য বাংলার পালা। এই ঘটনাক্রমে একটা বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা খুঁজে বের করার নির্দেশ অপরিকল্পিত নয়। গোটা দেশের ভোটব্যাঙ্কের যোগ-বিয়োগ মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ ছিল কেন্দ্রের। ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির এক্ষেত্রে সুবিধা কোথায়? তারা প্রথমেই ঠিক করে নিল, বাংলায় কথা বলা মানেই বাংলাদেশি। আর সেইসঙ্গে শুরু হল লাগাতার হেনস্তা। অথচ বঙ্গ বিজেপির তরফ থেকে এ ব্যাপারে উচ্চবাচ্যই করা হল না। এই গোটা প্রক্রিয়ায় বাঙালি নির্যাতনের দৃশ্য তারা স্রেফ অবজ্ঞা করে চলেছে। তবে তৃণমূলের সঙ্গে অন্তত বামেরা এই ইস্যুতে পথে নেমেছে। বুধবার ধর্মতলা থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত মিছিল হয়। অসমের ‘এনআরসি হুমকি’ প্রসঙ্গ টেনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ক্ষমা চাইতে হবে। উনি বাংলা ভাষাকে অপমান করেছেন। ভিন রাজ্যে আমাদের কেউ আক্রান্ত হলে বিজেপিকে শান্তিতে থাকতে দেব না।’