


নয়াদিল্লি: ‘অপারেশন সিন্দুরে’র আঘাতে বিপর্যস্ত পাকিস্তান। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় বারবার সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে গোলাগুলি চালিয়েছে পাক সেনা। জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানা, রাজস্থান, পাঞ্জাবের একাধিক শহর লক্ষ্য করে উড়ে এসেছে ড্রোনও। এই সমস্ত হানা ভেস্তে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। একইসঙ্গে পাল্টা জবাবও দেওয়া হয়েছে। শনিবার পাক বায়ুসেনার একাধিক ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারতীয় বায়ুসেনা। সরকারি প্রেস ব্রিফিং চলাকালীন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং জানান, এদিন ভোরে ভারত নিখুঁতভাবে শুধু পাক সেনাঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করেছিল। রফিকি, মুরিদ, চাকলালা, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর ও চুনিয়ান ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর পাশাপাশি পাসরুর রাডার সাইট ও সিয়ালকোট এভিয়েশন বেসেও আছড়ে পড়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র।
ব্যোমিকা আরও জানিয়েছেন, ভারত প্রত্যাঘাত করলেও সাধারণ মানুষের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রাখা হয়েছিল। এর জন্য সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্যবস্তু বাছাই করা হয়। পাকিস্তান যাতে ড্রোন বা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতে হামলা চালাতে না পারে, তার জন্যই এই প্রত্যাঘাত।
এদিন ভারতের আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য ছিল পাক-পাঞ্জাব প্রদেশের রফিকি এয়ারবেস। সেখানেই পাকিস্তানের মিরাজ ও চীনা জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান গুলি রাখা হয়। গত কয়েকদিনে আকাশপথে পাকিস্তান যত হামলা চালিয়েছে, তার বেশিরভাগের উত্স ছিল এই রফিকি বিমান ঘাঁটি। তাই এই ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে পাকিস্তানের আক্রমণ ভোঁতা করে দিয়েছে ভারত। এরপর ভারতীয় বায়ুসেনার লক্ষ্য ছিল রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা বিমান ঘাঁটি। আকাশপথে আক্রমণের ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির উপরেও ভরসা করে থাকে ইসলামাবাদ। ভারতীয় বায়ুসেনা সূত্রে খবর, গত ৭২ ঘণ্টায় পাকিস্তান ভারতকে লক্ষ্য করে যত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিল চাকলালার এয়ার মোবিলিটি স্কোয়াডের হেডকোয়ার্টার। এর পাশাপাশি মুরিদ ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি শাহপার-১ ড্রোন ও তুরস্ক থেকে আমদানি করা ড্রোন মজুত করে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি ব্যোমিকা জানান, ভারতীয় সেনা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।