


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘সময়’ নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতায় জোর মোদি সরকারের। ভারতের হবে নিজস্ব সময়। আমেরিকার জিপিএস, রাশিয়ার গ্লোনাস, চীনের বাইডো, ইউরোপ গ্যালিলিও’র মতো নেভিগেশনের ওপর নির্ভর করতে হবে না। ভারতীয় ‘নাবিক’ (নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন) ব্যবস্থাতেই এবার জোর দেওয়া হবে। আর এই ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম (আইএসটি)র নিখুঁত সময় মেনেই হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিন্দুর।’ ভারতের তৈরি নেভিগেশন এবং ভারতীয় সময়কে দেখেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হয়েছে প্রত্যাঘাত। বুধবার জানিয়েছে কেন্দ্র। সেনাবাহিনীকে এখন থেকে এই ভারতীয় সময়ই ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যে ব্যবস্থায় মাইক্রো, মিলি, ন্যানো সেকেন্ডকেও নির্দিষ্ট করে ধরা যায়।
সবারই মোবাইলের ঘড়িতে একই সময় দেখালেও রেলের রিজার্ভেশন সিস্টেম, স্টক মার্কেট, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা, টেলিকম, কম্পিউটার ইত্যাদির ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম সময়ের ফারাক হয়। এবার সেই ব্যবস্থাকেই নিখুঁত করছে কেন্দ্র। যাতে যাবতীয় সিস্টেমে সময় দেখায় একই। এমনকী পল, অনুপলও। তারই উদ্দেশে বুধবার বিষয়ের সঙ্গে জড়িত নানা ক্ষেত্রের সঙ্গে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রকের সচিব নিধি খারে, ইসরোর এবং সিএসআইআর-এনপিএলের (কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি)র বৈজ্ঞানিক মণীশ সাক্সেনা এবং ড. আশিস আগরওয়াল।
আমেদাবাদ, ভুবনেশ্বর, বেঙ্গালুরু, গুয়াহাটি এবং ফরিদাবাদে রয়েছে অ্যাটমিক ক্লক। পাঁচ জায়গায় রয়েছে মোট ২০ টি বিশেষ ঘড়ি। যা সময়ের প্রতিটি পল, অনুপল মাপছে। উপগ্রহ মারফৎ সেটি পাঠাচ্ছে দিল্লিতে সিএসআইআর-এনপিএলে। সেখান থেকেই সময় নির্দিষ্ট হচ্ছে। ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কার্গিল যুদ্ধ বা মুম্বই হামলার সময় আমেরিকা জিপিএসের স্যাটেলাইটের সঠিক সময় আমাদের দেয়নি। গতি মন্থর করে দেওয়া হয়েছিল। তাই ‘সময়’ বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল। কয়েক সেকেন্ডের ফারাকই সমস্যা তৈরি করে। তাই ভারত এখন নিজেই চার উপগ্রহ ব্যবহার তৈরি করেছে ‘নাবিক।’ ভবিষ্যতে যে ব্যবস্থায় ভারতীয়দের মোবাইলে আর জিএপিএস কিংবা বিদেশি কোনও নেভিগেশন ব্যবহার করতে হবে না। ভারত হবে সময়ে আত্মনির্ভর, মন্তব্য মন্ত্রীর।