


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা বিরোধী—বিজেপির গায়ে এই তকমা আগেই সেঁটে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বিজেপিকে বহিরাগত তকমা দিয়ে সুর আরও চড়াল জোড়াফুল ব্রিগেড। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ওইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করার অভিযোগ এনে কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদের পদত্যাগ দাবি করল শাসক দল।
প্রসঙ্গত, কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর হেগড়ে কাগেরি সরাসরি অবমাননা করেছেন জাতীয়সংগীতকে। ওইসঙ্গে তিনি অপমান করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও। তিনি দাবি করেছেন, রবিঠাকুর নাকি ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জকে তুষ্ট করার জন্য ওই ‘জনগণমন’ গান লিখেছিলেন।
বিজেপি সাংসদের এই বক্তব্য সামনে আসার পর প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে দেশেজুড়ে। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে ওই বিজেপি সাংসদকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু। তাঁদের বক্তব্য, দেশের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন বিজেপি সাংসদ। অপমান করেছেন জাতীয়সংগীত এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। অবিলম্বে ওই বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। আর ওই বিজেপি সাংসদকে পদত্যাগ করা উচিত। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, বিজেপি ধর্ম-জাতি-সম্প্রদায়ের মধ্যে সবসময়ই বিভাজন ঘটাতে চায়। এখন দেখা যাচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যেও বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে তারা!বিজেপি সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটে প্রতিবাদ সভা করে তৃণমূল। ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ রবীন্দ্রনাথকে অপমান করেছেন। জাতীয়সংগীতের অবমাননা থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির দুঃসাহস ক্রমর্ধমান। ওই বিজেপি সাংসদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় কংগ্রেস। ছিলেন সুমন রায়চৌধুরী, তাতা ভট্টাচার্য প্রমুখ। সুকিয়া স্ট্রিটে তৃণমূলের বিক্ষোভ। - নিজস্ব চিত্র